একদিনেই ৫০ হাজার চামড়া কেনাবেচা

যশোরের রাজারহাট

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৯

যশোর অফিস

চামড়া কেনাবেচার দীর্ঘদিনের দেনা-পাওনা নিয়ে এফবিসিসিআইর মধ্যস্থতায় ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের বৈঠকের পর চাঙ্গা হয়েছে যশোরের রাজারহাট মোকাম। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এ মোকামে গতকাল শনিবার প্রায় ৫০ হাজার কাঁচা চামড়া বেচাকেনা হয়। এর আগে ঈদপরবর্তী তিন হাটে দাম না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি না করে সংরক্ষণ করে রাখেন। তবে গতকাল দাম নিয়ে পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা দাম বেড়েছে বলে জানালেও খুচরা কারবারিরা বলছেন, লোকসানের শঙ্কা এখনও কাটেনি।

বৃহত্তর যশোর চামড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, গতকাল রাজারহাটে প্রচুর চামড়ার সমাগম ছিল। বেচাকেনাও হয়েছে সরকার নির্ধারিত দরে। ফলে এ হাটে চামড়া বিক্রি করে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লাভের মুখ দেখেছেন। মান ও আকারভেদে প্রতিটি গরুর চামড়া ৭শ' থেকে ১১শ' ও ছাগলের চামড়া গড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। হাটের ইজারাদার হাসানুজ্জামান হাসু বলেন, ঈদের পরে গতকাল বাজার ছিল জমজমাট। গতকাল হাটে ৪০ হাজার পিস গরু ও ১০ হাজার পিস ছাগলের চামড়া উঠেছিল। অন্তত আড়াই কোটি টাকার হাতবদল হয়েছে।

খুচরা কারবারিদের দাবি, হাট জমজমাট হলেও কাঙ্ক্ষিত দামে চামড়া বেচতে পারেননি তারা। যশোরের মনিরামপুরের পাচাকড়ি গ্রামের হরিশংকর রায় জানান, তিনি এবারের কোরবানি ঈদে ৬-৭শ' টাকা পিস হিসেবে গরুর চামড়া কিনেছিলেন। দাম না থাকায় গত ১২ দিন লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণ করেন। কাঙ্ক্ষিত দাম গতকালও পাননি। অনেকটা কেনা দামেই বিক্রি করে লোকসানের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন।

খুলনা থেকে এ হাটে চামড়া বেচতে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, তিনি বাড়ি বাড়ি ঘুরে আট শতাধিক চামড়া কিনেছিলেন। গত কয়েক দিনে তিন দফা লবণ মাখিয়েছেন। ভালো মানের সেই চামড়া হাটে উঠিয়ে ব্যাপারিরা এখন যে দাম বলছে, তাতে লবণ খরচ ওঠানো মুশকিল।

যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের ইসলাম আহম্মেদ জানান, গতকাল রাজারহাটে চামড়া বিক্রি হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৩০-৩৫ টাকা দরে। অন্যদিকে পাইকারদের দাবি ভিন্ন। আড়তদার ও ব্যাপারিরা বলছেন, যে দামে চামড়া বেচাকেনা হচ্ছে, তাতে খুচরা কারবারিরা লাভবান হলেও লোকসান গুনতে হবে ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের।

ঢাকার তুবা লেদার কমপ্লেক্সের স্বত্বাধিকারী হাসান কালু বলেন, রাজারহাটে চামড়ার দাম বেশি যাচ্ছে। ভালো মানের চামড়া এক হাজার ১০০ টাকাতেও মিলছে না। এখান থেকে চামড়া কিনে পরিবহন খরচ মিলিয়ে লাভবান হতে পারব না। কেননা, ভারত, পাকিস্তানসহ বহির্বিশ্বে চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৮০ সেন্ট থেকে ১ ডলারে। সেই তুলনায় দেশে উচ্চমূল্যেই চামড়া বেচাকেনা  হচ্ছে। রাজারহাটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত দামে অর্থাৎ গরুর চামড়া প্রতি ফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় কেনা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন বলে তিনি জানান।