সার্কে বাংলাদেশের রফতানির ৮৯ শতাংশই ভারতে

গত অর্থবছরে বাকি ৬ দেশে গেছে মাত্র ১৬ কোটি ডলারের পণ্য

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

আবু হেনা মুহিব

সার্কভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি বাড়ছে। ১৪০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে গেল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। আগের অর্থবছরের চেয়ে যা প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি। তবে কম সময়ে পণ্য পৌঁছানোসহ নানা সুবিধা বিবেচনায় এই বৃদ্ধি যথেষ্ট। সার্কের মধ্যে রফতানি বলতেও আবার ভারতসর্বস্ব। আট জাতির এই জোটে মোট রফতানি আয়ের ৮৯ ভাগই এসেছে ভারত থেকে। বাকি ছয় দেশে রফতানি খুবই কম।

নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে মুক্তবাণিজ্য এলাকা চুক্তি সাফটার সুবিধা কার্যকর রয়েছে। এর বাইরে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পণ্য পৌঁছাতে সাশ্রয়ী অর্থব্যয় ও সময়ের সুযোগও আছে। তবে অশুল্ক্ক ও আধা-শুল্ক্ক বাধা এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক্ক বাধা থাকায় বাংলাদেশের রফতানিতে কাঙ্ক্ষিত গতি নেই। বড় রফতানিকারকরাও প্রতিবেশী দেশগুলোতে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছেন না। এসব কারণে সার্কের আন্তঃবাণিজ্য মাত্র ৩ শতাংশ।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সার্কের সাত দেশে বাংলাদেশের রফতানি হয়েছে ১৪১ কোটি ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের তুলনায় রফতানি বেশি হয়েছে ৩৭ কোটি ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রফতানির পরিমাণ ছিল ১০৪ কোটি ডলার। ওই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশ।

গত অর্থবছরে মোট রফতানি আয়ের মধ্যে শুধু ভারতেই রফতানি হয়েছে ১২৫ কোটি ডলার। বাকি ছয় দেশে গেছে মাত্র ১৬ কোটি ডলারের পণ্য। ভারতের পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে পাকিস্তানে। অন্যান্য দেশে রফতানি লাখ ডলারের ঘরে। মোট রফতানির ৮৯ শতাংশই এসেছে ভারত থেকে। আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ৮৭ শতাংশ। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ভারতে পোশাক রফতানি প্রথমবারের মতো ৫০ কোটি ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গেল অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ৮০ শতাংশ।

দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য নিয়ে গবেষণা করে থাকে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম)। জানতে চাইলে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সেলিম রায়হান সমকালকে বলেন, লিড টাইমের সুবিধা এবং উৎপাদিত পণ্যের মান এবং ধরনের সুবিধায় সার্কে বাংলাদেশের রফতানি কয়েক বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ভারতে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হলেও অসংখ্য অশুল্ক্ক বাধা আছে। পণ্যের মানসনদ জটিলতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কলকাতায় মাছ রফতানি করতে ত্রিপুরায় নমুনা পাঠিয়ে সনদ নিতে হয়। প্রায় সব পণ্যেই এই সনদ জটিলতা আছে। পাট পণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং আরোপ করা হয়েছে। লেনদেনেও অস্বচ্ছতা আছে। সানেমের এক জরিপে দেখা গেছে, বেনাপোল বন্দরের ৮ কর্মঘণ্টার অর্ধেক মাত্র ৪ ঘণ্টা আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চলে। সার্কের অন্যান্য দেশের বিষয়ে সেলিম রায়হান বলেন, পাকিস্তানে আমদানি-রফতানি করতে হলে শ্রীলংকা বা সিঙ্গাপুর হয়ে পণ্য আনা-নেওয়া করতে হয়। শ্রীলংকা এবং নেপালে আছে উচ্চ শুল্ক্ক বাধা।