প্রচুর ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার

চলতি অর্থবছরের ৩৯ দিনে ২৩,৭৬১ কোটি টাকা

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

ওবায়দুল্লাহ রনি

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে অর্থবছরের শুরুতেই প্রচুর ঋণ নিচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি নিয়েছে মাত্র ৩৯ দিনে। গত ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংক থেকে সরকার নিয়েছে ২৩ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের প্রায় সমান। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নিয়েছে ২৬ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু, বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, রাস্তা চার লেনে উন্নীত করাসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় ব্যাপক বাড়লেও রাজস্ব আয় আশানুরূপ হারে বাড়ছে না। ফলে ঋণনির্ভরতা বেড়েছে বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে কড়াকড়ি আরোপ ও এর মুনাফায় কর বাড়ানোর কারণে এ খাত থেকে সরকারের ঋণ আগের চেয়ে কমছে। ব্যাংক থেকে ঋণ বৃদ্ধির এটিও একটি কারণ।

সূত্র জানায়, গত ৮ আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সরবরাহ করেছে ৬ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নিয়েছে ১৭ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩১ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৯১ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৪০ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা।

মতামত জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর সমকালকে বলেন, রাজস্ব আয়ে গতি কম থাকায় সরকারের ঋণনির্ভরতা বেড়েছে। তিনি বলেন, রাজস্ব খাতে সংস্কারের নামে সরকার এবার যা করেছে তা আরও খারাপ হয়েছে।

গত অর্থবছরের মূল বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। আশানুরূপ আদায় না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকায় নামানো হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত আদায় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকার নিট ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে। আর সঞ্চয়পত্র থেকে নিতে চায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরলেও পরে তা কমিয়ে ৩০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা করা হয়। আর মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সংশোধিত বাজেটে করা হয় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। যদিও অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্রে ঋণের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা।

২০১৭-১৮ অর্থবছর ব্যাংক থেকে ১৯ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকার নিয়েছিল মাত্র ৯২৬ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছর সরকার যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল পরিশোধ করেছিল তার চেয়ে ১৮ হাজার ২৯ কোটি টাকা বেশি। এর আগের অর্থবছর নিয়েছিল মাত্র ৪ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছর সরকারের ঋণ কমেছিল ৬ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা।

সংশ্নিষ্টরা জানান, ব্যাংক থেকে সরকার ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ সুদে ঋণ পাচ্ছে। অথচ সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নিতে সরকারকে ব্যয় করতে হচ্ছে ১১ দশমিক শূন্য ৪ থেকে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ কমাতে চাইছে সরকার। এ লক্ষ্যে এক লাখ টাকার বেশি মূল্যমানের সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করাসহ নানা কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।