খেলাপি ঋণ এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা

মোট পরিমাণ বাড়লেও অধিকাংশ ব্যাংকের কমেছে

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকের তুলনায় জুন শেষে অধিকাংশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে। তবে বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ব্যাপক বৃদ্ধির প্রভাবে সামগ্রিক ব্যাংক খাতের পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। নানা অনিয়মের কারণে ধুঁকতে থাকা ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ তিন মাসে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ছয় হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা হয়েছে। এতে সামগ্রিক ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ এক হাজার ৫৫১ কোটি টাকা বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৬২ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তিন মাস আগে এর পরিমাণ ছিল এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, যা ছিল ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

তিন মাস আগের তুলনায় জুনে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ১৩৫ কোটি টাকা কমে ৫৩ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকায় নেমেছে। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের ৮৯ কোটি টাকা কমে হয়েছে চার হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে ১৯৯ কোটি টাকা কমে দুই হাজার ৫৮ কোটি টাকায় নেমেছে। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ এক হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ৫১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। যেখানে শুধু এবি ব্যাংকের বেড়েছে চার হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা।

অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন পরিচালক, দু'জন ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা চলছে। ব্যাংকটির ওপর পরিচালিত বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক পরিদর্শনে বেশ কিছু খেলাপি ঋণ উদ্ঘাটিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, জুনে ব্যাংকটির ২৪ হাজার ৬০ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি হয়েছে ছয় হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। তিন মাস আগে ব্যাংকটির ২৩ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ছিল এক হাজার ৮২৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় আসা জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২১ হাজার ৪১১ কোটি থেকে কমে ২০ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকায় নেমেছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের খেলাপি আগের প্রান্তিকের ছয় হাজার ৯১৬ কোটি থেকে নেমে এসেছে তিন হাজার ৩৬৩ কোটি টাকায়। এ ছাড়া পদ্মা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ তিন হাজার ৪৮০ কোটি থেকে কমে দুই হাজার ৯২৮ কোটি টাকা হয়েছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেসিক ব্যাংকে ১১১ কোটি ও অগ্রণীতে ১২২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে। বাকি ব্যাংকগুলোয় কমেছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবি ব্যাংক ছাড়া বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের খেলাপি ৭০৯ কোটি থেকে বেড়ে এক হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা হয়েছে। এর বাইরে বেশিরভাগ ব্যাংকে কমেছে।

খেলাপি ঋণ কমাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে গত ১৬ মে ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্দমানে খেলাপি হওয়া ঋণ মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট বা এককালীন জমা দিয়ে ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়। ব্যাংকগুলো এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুদ নিতে পারবে ৯ শতাংশ। তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে এর কার্যক্রম অনেক দিন বন্ধ ছিল। যে কারণে গত জুন প্রান্তিকে বিশেষ বিবেচনায় কোনো ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারেনি ব্যাংকগুলো। তবে আপিল বিভাগের নির্দেশনায় গত ৮ আগস্ট থেকে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবার আবেদন নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।