ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় কমেছে ৬২%

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় ব্যাপক কমেছে। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ব্যাংকগুলো এ খাতে ব্যয় করেছে মাত্র ২৩৯ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ব্যয় ছিল ৬২৭ কোটি টাকা। এ হিসেবে ব্যয় কমেছে ৩৮৮ কোটি টাকা বা ৬২ শতাংশ। ব্যয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম মানেনি অধিকাংশ ব্যাংক। শিক্ষায় সর্বোচ্চ ব্যয় করার নির্দেশনা থাকলেও অনেক ব্যাংক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বেশি ব্যয় করেছে।

জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সিএসআর ব্যয় কমার প্রভাবে সামগ্রিক খাতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ইসলামী ব্যাংক চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে মাত্র ৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির ব্যয় ছিল ২৭৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে গত বছরের শুরুর দিকে সরকারের মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে ২০০ কোটি দেওয়া হয়। সামগ্রিকভাবে সিএসআর ব্যয় বাড়াতে যা ভূমিকা রাখে। এছাড়া ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমায় সিএসআর ব্যয় কমেছে।

সিএসআর খাতে আলোচ্য ৬ মাসে সর্বোচ্চ ৪৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক। গত বছর একই সময়ে ব্যাংকটির ব্যয় ছিল ৪৯ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে এক্সিম ব্যাংক। গত বছর ব্যাংকটি ব্যয় করে ৩৪ কোটি টাকা। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। গত বছর একই সময়ে ব্যাংকটির ব্যয় ছিল মাত্র ৯ কোটি ৬০  লাখ টাকা।

ব্যাংকগুলোর সিএসআর খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। মোট ব্যয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ শিক্ষা এবং ২০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে খরচের কথা রয়েছে। তবে সার্বিকভাবে ব্যাংকগুলো শিক্ষায় ব্যয় করেছে মাত্র ৫৬ কোটি টাকা বা ২৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে মাত্র ২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বা ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ ব্যয় করেছে। ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১১৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়।

জানতে চাইলে এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া সমকালকে বলেন,এবার বন্যাদুর্গত ও রোহিঙ্গাদের জন্য সিএসআরের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করা হয়েছে।

নিয়ম মেনে শিক্ষায় ৩০ শতাংশের বেশি ব্যয় করেছে ৯টি ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো- রাষ্ট্রীয় মালিকানার রূপালী, বেসরকারি খাতের ডাচ্‌-বাংলা, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ওয়ান, প্রাইম, ব্যাংক এশিয়া, বিদেশি ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ও এইচএসবিসি। আর স্বাস্থ্য খাতে অর্থ খরচে নিয়মের মধ্যে আছে ৮টি ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো- রাষ্ট্রীয় মালিকানার রূপালী, বিডিবিএল, বেসরকারি খাতের আল-আরাফাহ, ঢাকা, যমুনা, প্রাইম, বিদেশি ব্যাংক আল-ফালাহ ও এইচএসবিসি।