টেকসই উন্নয়নের জন্য দক্ষতা বাড়াতে হবে

পিকেএসএফের সেমিনারে বক্তারা

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যগুলো (এসডিজি) অর্জনে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো ও দক্ষ জনবল সৃষ্টি জরুরি। 'টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-৩ : সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ' বিষয়ক এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এমন মতামত দেন।

'গণমানুষের কণ্ঠস্বর :বাংলাদেশে ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন জোরদারকরণ' নামে পল্গ্যাটফর্ম গতকাল বুধবার পিকেএসএফ ভবনে এর আয়োজন করে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি প্রধান অতিথি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বিশেষ অতিথি ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি বলেন, 'কাউকে বাদ দিয়ে নয়' টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে সরকার তা বাস্তবায়নে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এসডিজির প্রতিটি অভীষ্ট পরস্পর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ অর্জনে দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার হার বৃদ্ধি ও নারীর ক্ষমতায়ন জরুরি। এসডিজি অর্জনে অর্থায়নকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তা মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি ও ব্যবসায়িক মহলের অংশীদারিত্ব বাড়ানো এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার প্রতি গুরুত্ব দেন।

শেখ ইউসুফ হারুন এসডিজি-৩ অর্জনে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে, যার জন্য অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্বাস্থ্য খাতের সব কর্মীর দক্ষতা ও মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এসডিজি-৩ অর্জনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, টেকসই উন্নয়ন অর্জনের জন্য প্রয়োজন বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা। দক্ষ জনবল সৃষ্টি, দুর্নীতি প্রতিরোধ, যথাযথ ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং

সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি প্রচেষ্টার সঙ্গে পিকেএসএফও পরিপূরক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পিকেএসএফের বিভিন্ন কার্যক্রমে এসডিজির ১৭টির মধ্যে ১৩টির প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় বলে তিনি জানান। সবার সামষ্টিক প্রচেষ্টায় এসব উদ্যোগ চলমান থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সেমিনারে আলোচ্য বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিকেএসএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জসীম উদ্দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন এবং মুক্ত আলোচনা পর্বে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাসহ বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি তাদের মত দেন।