গুগল ফেসবুক থেকে আয় ৪৭ কোটি টাকা

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

ওবায়দুল্লাহ রনি

গুগল ও ফেসবুকে পাঁচ বছরে বাংলাদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ২৩১ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন প্রচার করেছে। এর বিপরীতে ভ্যাট ও ট্যাক্স থেকে সরকারের আয় হয়েছে ৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা আয় হয়েছে ২০১৭ সালে। ওই বছরে বিজ্ঞাপন প্রচার হয় ৯৬ কোটি টাকার। অবশ্য গুগল ও ফেসবুকে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে যেসব বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করেছে শুধু সেই তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে যে বিজ্ঞাপনের অর্থ গেছে এর মধ্যে ১৩৯ কোটি টাকা পরিশোধ হয়েছে গুগল এশিয়া প্যাসিফিক প্রাইভেট লিমিটেডের নামে। এর বিপরীতে কর ও ভ্যাট বাবদ সরকারের আয় হয়েছে ২৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আর ফেসবুক আয়ারল্যান্ড লিমিটেডের অনুকূলে ৮৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিপরীতে সরকার পেয়েছে ১৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। গুগল ও ফেসবুকের বাইরে আল্টিমিডিয়া ই-সল্যুশন নামের এক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দুই কোটি ৭৫ লাখ টাকার বিজ্ঞাপন থেকে সরকার পেয়েছে ৪১ লাখ ৩১ হাজার টাকা। এ ছাড়া এসবিআর টেকনোলজিস প্রাইভেট নামের একটি প্রতিষ্ঠানে এক লাখ ২৬ হাজার টাকা পরিশোধ হয়েছে। এখান থেকে সরকার পেয়েছে ৩৭ হাজার ৮০০ টাকা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ২০১৪ সাল থেকে গুগল ও ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞাপনের অর্থ পরিশোধ হচ্ছে। ওই বছর মাত্র তিন কোটি ৫০ লাখ টাকার বিজ্ঞাপন দিলেও সরকারের কোষাগারে কোনো টাকা জমা হয়নি। ২০১৫ সাল থেকে বিজ্ঞাপনের পরিমাণ বেড়েছে। গুগল, ফেসবুকে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের বিল গেছে বেসরকারি খাতের ১০টি ব্যাংকের মাধ্যমে। এককভাবে সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞাপনের বিল স্থানান্তর করেছে ব্যাংক এশিয়া। গত পাঁচ বছরে প্রচারিত ২৩১ কোটি টাকার মধ্যে শুধু ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে বিল পরিশোধ হয়েছে ১০২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে সরকার পেয়েছে ১৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এ ছাড়া সিটিব্যাংক এনএ, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ্‌-বাংলা, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, দ্য সিটি, ব্র্যাক, সাউথইস্ট, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ও এবি ব্যাংকের মাধ্যমে গেছে বাকি বিজ্ঞাপনের বিল।

জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশনের প্রধান মো. জিয়া আরফিন সমকালকে বলেন, সরকারের নীতিমালা মেনে তারা গুগল, ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বিল স্থানান্তর করেন। এ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে বিলের  ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর কেটে সরকারি কোষাগারে  জমা করা হয়।

বাংলাদেশে গুগল ও ফেসবুকের মতো অনলাইন মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের বিষয়ে তদারকির সুবিধার্থে এসব প্রতিষ্ঠানের অফিস বাংলাদেশে থাকা উচিত বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি উচ্চ আদালতে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই সুপারিশ করেছে। গত বছরের ১২ এপ্রিল বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের বেঞ্চে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি ওই প্রতিবেদন জমা দেয়। বেশ আগ থেকে অফিস খোলার কথা বলা হলেও আগ্রহ নেই প্রতিষ্ঠানগুলোর। গুগলের একজন প্রতিনিধি ঢাকায় কর্মরত আছেন। ফেসবুক কর্তৃপক্ষও একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করবে বলে সম্প্রতি জানিয়েছে।