নারায়ণগঞ্জ থেকে পণ্য পরিবহন সহজ হবে

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

আবু হেনা মুহিব

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকের নিট পণ্যের প্রায় সব কারখানা গড়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জে। প্রায় দুই হাজার কারখানা রয়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। অন্যান্য শিল্পকারখানার সংখ্যাও অনেক। এসব কারখানার কাঁচামাল ও পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের অন্যান্য স্থানে পরিবহনে ব্যাপক বেগ পেতে হয়। রপ্তানি চুক্তি অনুযায়ী সময়মতো ক্রেতার হাতে পণ্য পৌঁছানো প্রায় কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে পরিবহন ব্যবস্থা সহজ করতে জেলার চাষাঢ়া থেকে আদমজী ইপিজেড পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

চাষাঢ়া থেকে খানপুর হাজিগঞ্জ হয়ে গোদনাইল আদমজী ইপিজেড হয়ে প্রস্তাবিত নতুন সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এতে সাধারণ জনগণও সাশ্রয়ী এবং কার্যকরী যোগাযোগ সুবিধা পাবে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা। রেলের পরিত্যক্ত রুট হিসেবে এটি এখন অব্যবহূত পড়ে আছে। এ জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) পরবর্তী সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবের শুরুতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৫৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করেছিল। তবে পরিকল্পনা কমিশনের পিইসি সভায় প্রস্তাব পর্যালোচনা করে টাকার অঙ্ক কমিয়ে ১১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকাকে যথেষ্ট এবং যুক্তিসঙ্গত হিসেবে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা সে অনুযায়ী আগের প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করেছে। সরকারের নিজস্ব অর্থে এ ব্যয় নির্বাহ করা হবে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, এ সড়ক নির্মাণ হলে প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের নিট উৎপাদনকারীরা লাভবান হবেন। বিদ্যমান সড়ক অবকাঠামোর দুর্বলতায় যানজটের কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার দীর্ঘদিনের সংকটের সুরাহা হবে। পরিকল্পনা কমিশন ও প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) প্রকল্প পর্যালোচনায় বলেছে, এ সড়কের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট অনেকাংশে কমে আসবে। প্রকল্প এলাকার সাধারণ জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

তিন বছর মেয়াদের প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই থেকে শুরুর পরিকল্পনা ছিল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের। এখন সরকারের অনুমোদনের পর এটির কাজ শুরু হয়ে চলবে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত।

কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, পিইসি ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রস্তাবে আরও কিছু কাটছাঁট করেছে। এতে একটি জিপ গাড়ি, একটি ডাবল কেবিন পিকআপ ও তিনটি মোটরসাইকেল কেনার প্রস্তাব বাদ দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় বসবাসরতদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও নাকচ করে দিয়েছে পিইসি। তাদের মতে, বসবাসরতরা রেলের জমিতে অবৈধভাবে বসবাস করছে। ফলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দিয়েছে পিইসি।

নারায়ণগঞ্জের শিল্পোদ্যোক্তারা মনে করেন, প্রস্তাবিত সড়ক বাস্তবায়ন হলে জেলার আর্থ-সামাজিক চেহারা পাল্টে যাবে। নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। জানতে চাইলে নিট পোশাক উৎপাদন ও রফতানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর পরিচালক ফজলে শামীম এহসান সমকালকে বলেন, যানজটমুক্ত পরিবহন সেবা পেলে নিট খাতের উৎপাদন ব্যয় অন্তত ২ থেকে ৩ শতাংশ কমে যাবে। এতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে বাংলাদেশের পোশাকের। বর্তমান উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে পোশাক শিল্প। রফতানি আদেশ চলে যাচ্ছে প্রতিযোগী দেশে। একটা অনুকূল অবস্থা তৈরি হলে নতুন নতুন বিনিয়োগ আসবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পোশাকের অন্যান্য খাতেও একই সুবিধা তৈরি হবে।

প্রস্তাবিত সড়কের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৬ দশমিক ২০ কিলোমিটার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আদমজী ইপিজেডে উৎপাদিত পণ্য মালবাহী ভারী যানবাহনে সরাসরি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড অংশে মিলিত হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রফতানি পণ্য ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের কৃষি পণ্য এবং কাঁচামাল দ্রুত এবং সহজে পদ্মা সেতু দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পরিবহন করা যাবে। নারায়ণগঞ্জে রফতানি পণ্য ছাড়াও দেশের বাজারের জন্য হোসিয়ারি পণ্য, সুতার বাজার, সাবান ও পাট শিল্পের কারখানা সবচেয়ে বেশি। মেঘনা গ্রুপসহ ভোগ্যপণ্যের বেশিরভাগ কারখানাই এখানে অবস্থিত।