বয়লার নির্মাণ ও মেরামতের সুযোগ চান উদ্যোক্তারা

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০১৯      

মিরাজ শামস

কারখানায় উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে দ্রুত বয়লার নির্মাণ ও মেরামতের সুযোগ চায় প্রতিষ্ঠানগুলো। বয়লার আইনের সংশোধনীতে এ দুটি বিষয়ের শর্ত সহজ করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা। কেননা প্রস্তাবিত নতুন বয়লার আইনের খসড়া চূড়ান্ত হলে বয়লার নির্মাণ ও মেরামতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে। এতে কোনো কারখানার বয়লারে সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত মেরামতের সুযোগ থাকবে না। তখন উৎপাদন বিঘ্নিত হবে।

এমন পরিস্থিতিতে বয়লার 'নির্মাণ ও মেরামতের' বিষয়টি বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে আইনের সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলে মতামত এসেছে। এর পরিবর্তে আগের মতো আমদানির পর নিবন্ধনের পদ্ধতি বহাল রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয় সম্প্রতি 'বয়লার আইন ১৯২৩' সংশোধন করে নতুন বয়লার আইন ২০১৯-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে। খসড়াটি সংশ্নিষ্টদের মতামতের জন্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও সংশোধনীর প্রস্তাব দিয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি শিল্প সচিব আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব মতামত তুলে ধরা হয়।

আইন সংশোধনীর খসড়ায় বয়লার ও এর যন্ত্রাংশ আমদানি, নির্মাণ, ব্যবহার ও মেরামতের ক্ষেত্রে প্রধান পরিদর্শকের কাছ থেকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করে অনুমোদন নিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পূর্বানুমতি ছাড়া বয়লার বা এর যন্ত্রপাতি আমদানি করা যাবে না। একইভাবে নির্মাণও করা যাবে না। পরিদর্শনকারী কর্তৃপক্ষের স্বীকৃত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মাণ ও মেরামত করতে হবে। একইভাবে বয়লার ও এর যন্ত্রপাতি ওয়েল্ডিং ও পরীক্ষণের কাজও পরিদর্শনকারী কর্তৃপক্ষের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করতে হবে। পরিদর্শক আবেদন পাওয়ার পর বয়লার পরীক্ষার জন্য সূচি নির্ধারণ করে আবেদনকারীকে অবহিত করবেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) খসড়ার এ বিষয়গুলো সংশোধন করা প্রয়োজন বলে মনে করে। সংস্থাটির আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি মতামতে জানিয়েছে, তাদের সার কারখানায় উচ্চ তাপ ও চাপের জন্য দুটি বয়লার উৎপাদনকারী দেশ থেকে সরাসরি কিনে কারখানার নিজস্ব অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়। কোনো ত্রুটি হলে তাদের মাধ্যমে মেরামত করা হয়।

একইভাবে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার, শাহজালাল ফার্টিলাইজার ও যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি বয়লার পরিদর্শনকারী কর্তৃপক্ষের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারও খসড়া আইনের এ বিষয়ে আরও সংশোধন আনার প্রস্তাব দিয়েছে। সংগঠনের সদস্য ম্যাফ নিউজপ্রিন্ট মিলস জানিয়েছে, আধুনিক যুগে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েও আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে টিকে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বয়লার নির্মাণ বা মেরামতে আইনের খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন পেলে কারখানা কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া দুরূহ হয়ে পড়বে। সময় ক্ষেপণের কারণে বয়লার ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও স্থাপনে বিলম্ব হবে এবং ব্যয় বাড়াবে।

ইপিজেডের প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিন্সসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান একই মত দিয়ে বলেছে, এমন সিদ্ধান্ত বয়লার ও যন্ত্রাংশ স্থাপনে অতিরিক্ত সময় লাগবে এবং ব্যয় বাড়াবে।