বিদেশে অল্প অর্থ পাঠানো সহজ হচ্ছে

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০১৯      

ওবায়দুল্লাহ রনি

শিক্ষা, চিকিৎসা, পরিবারের খরচ মেটানোসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এখন হরহামেশা বিদেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে নানা জটিলতা ও বেশি ব্যয়ের কারণে অনেকেই হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠান। এ পরিস্থিতিতে দেশের বাইরে বিভিন্ন পরিশোধ সহজ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ক্ষুদ্র প্রয়োজন মেটাতে একটি মানি ট্রান্সফার কোম্পানির চ্যানেল ব্যবহার করে সরাসরি বাইরে অর্থ পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতের দুটি ব্যাংকের শাখা থেকে এ অর্থ পাঠানো যাচ্ছে। এ ছাড়া ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা ঘরে বসেই যাতে দেশের বাইরে পরিশোধ করতে পারেন সে জন্য সব ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী শাখাগুলোকে আলাদা একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মানি ট্রান্সফার কোম্পানি ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে শিক্ষা, চিকিৎসা ও পরিবারের খরচ মেটানোর অর্থ পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে নির্দিষ্ট আবেদনের বিপরীতে উচ্চতর শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠানো যায়। ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে প্রতিবার ৬০ ডলারের মতো চার্জ দিতে হয়। তবে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের চ্যানেল ব্যবহার করে অর্থ পাঠাতে সর্বোচ্চ খরচ পড়বে ১৬ ডলার।

সংশ্নিষ্টরা জানান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পরিবারের খরচ মেটানো ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সারদের সেবা রফতানির জন্য দেশের বাইরে নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। আগে শুধু নির্দিষ্ট কার্ডের মাধ্যমে ৩০০ ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করা যেত। গত ৯ সেপ্টেম্বর এক নির্দেশনার মাধ্যমে এ সীমা বাড়িয়ে ৫০০ ডলার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ওয়ালেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনলাইন ব্যবস্থায় ঘরে বসেই অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো দেওয়া এ সুযোগ ভোগ করতে অবশ্য কিছুটা সময় লাগবে। কেননা, ডিজিটাল ওয়ালেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে এমন সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির নির্দেশনা দিয়েছে। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নির্ধারিত রফতানি রিটেনশন কোটা বা ইআরকিউ হিসাব থেকে ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

আইটি খাতের ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট ফি দিয়ে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের অ্যাপ স্টোরে নিবন্ধিত হতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্নিষ্টরা জানান, অর্থ পাচারের ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছে। তবে বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে মানুষ বাইরে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব থাকছে না। আবার সরকার ও দেশ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে ঘরে বসেই দেশের বাইরে পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে পেপাল, মানি বুকারস, বেস্ট পেমেন্ট গেটওয়ে এবং ভার্চুয়াল পের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশের বাইরে থেকে অর্থ আনতে পারেন ফ্রিল্যান্সাররা। এ ছাড়া দেশের ভেতরে ডিজিটাল ওয়ালেট সেবার অনুমোদন পেয়েছে আইটি কনসালট্যান্স, সূর্যমুখী, এসএসএল কমার্জ, আইপে সিস্টেমস ও ডি মানি বাংলাদেশ লিমিটেড। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ই-কমার্সসহ বিভিন্ন ধরনের পরিশোধ সহজ করার লক্ষ্যে এসব ডিজিটাল ওয়ালেটের অনুমোদন দেওয়া হয়।