বেশি বরাদ্দের ১৫ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অগ্রগতি কম

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

আবু হেনা মুহিব

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে বেশি বরাদ্দ পাওয়া ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অগ্রগতি কম। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে এসব মন্ত্রণালয়ের কোনো কোনোটির বাস্তবায়ন হার ২ শতাংশেরও কম। বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩ শতাংশের নিচে রয়েছে এমন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংখ্যা ছয়টি।

চলতি অর্থবছরে মোট এডিপি বরাদ্দের ৮০ শতাংশেরও বেশি এসব মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে। প্রথম চার মাসের বাস্তবায়ন অগ্রগতি শেষে দেখা গেছে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলোর ব্যয় মোট বরাদ্দের মাত্র ১ দশমিক ০৬ শতাংশ।

বেশি বরাদ্দ পাওয়া অন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হলো- নৌ পরিবহন, বিমান ও পর্যটন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পানিসম্পদ, রেলপথ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক, স্বাস্থ্য ও সেবা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, সেতু, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ। এদিকে আলোচ্য চার মাসে মোট এডিপির ব্যয় হয়েছে ২৬ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে বাস্তবায়নের হার ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ হার অবশ্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি। ওই সময় বাস্তবায়ন হয়েছিল ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য বিশ্নেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর সমকালকে বলেন, অর্থ সংকটই হবে চলতি অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন দুর্বলতার প্রধান কারণ। কেননা অর্থনীতির বেশিরভাগ সূচক নেতিবাচক। রপ্তানি, রাজস্ব আয়, বেসরকারি ঋণসহ প্রায় সব সূচক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের সংকট তৈরি হতে পারে। বিকল্প কোনো উৎস থেকে ঋণ করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেরও সুযোগ নেই। ফলে অন্যান্য বছরের শেষ দিকে এসে তড়িঘড়ি করে মানহীন প্রকল্প বাস্তবায়নের যে প্রবণতা থাকে, এবার তার সম্ভাবনা কম বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বছর বৃহৎ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১৫ মন্ত্রণালয়কে এক লাখ ৭৪ হাজার ২৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এডিপির আকার ধরা হয়েছে দুই লাখ ১৫ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ চার হাজার ৯২৮ কোটি টাকার মধ্যে গত চার মাসে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে আলোচিত কেমিক্যাল পল্লীসহ ৫৩ প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতি ধীর হওয়ার বিষয়ে শিল্প সচিব আব্দুল হালিম সমকালকে বলেন, তাদের প্রকৃত বাস্তবায়ন হার এত কম হওয়ার কথা নয়। অর্থছাড় বিলম্ব হওয়ায় কিছু প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ডিসেম্বর নাগাদ ছয় মাসের প্রতিবেদনে সন্তোষজনক প্রতিফলন দেখা যাবে বলে মনে করেন তিনি। গত অর্থবছর তাদের মন্ত্রণালয় প্রায় শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে বলে জানান তিনি।

এডিপি বাস্তবায়নের গত চার বছরের প্রবণতা বিশ্নেষণে দেখা যায়, বছরের প্রথম দিকে বাস্তবায়নের হার ১৩ থেকে ১৪ শতাংশের ঘরে সীমাবদ্ধ থাকে। শেষ দিকে এসে তা বাড়ে। বছর শেষে বাস্তবায়ন দাঁড়ায় ৯৩ থেকে ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত। গত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৯৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ।