চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি দরকার

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা ও এসিআই গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিস উদ দৌলা। তিনি বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা। এর সঙ্গে খাপ খাওয়াতেই হবে। কিন্তু দেশের শিক্ষা খাতের পাঠ্যসূচিতে তার কোনো লক্ষণ নেই। প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেই। একই সঙ্গে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে।

স্টেট ইউনিভার্সিটি 'শিল্প ও শিক্ষার সংযোগ' শীর্ষক একটি ধারাবাহিক বক্তৃতামালার প্রথম বক্তা ছিলেন এসিআই গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিস উদ দৌলা। গতকাল মঙ্গলবার ইউনিভার্সিটির কলাবাগান ক্যাম্পাসে প্রায় এক ঘণ্টার বক্তৃতায় তিনি পরিবর্তিত বিশ্ব, শিল্পের চাহিদা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সরকারের করণীয় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তৃতার শেষে এসিআইর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, এসিআই শুধু মুনাফার জন্য ব্যবসা করে না, সামাজিক দায়িত্বও পালন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান আবু তাহের খান আনিস উদ দৌলার সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেন।

আনিস উদ দৌলা বলেন, শিল্প ও শিক্ষার মধ্যে ব্যাপক সংযোগ থাকা দরকার; কিন্তু বাংলাদেশে তা নেই। কারণ শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতের নেতা ও পরিচালনাকারী। শিক্ষা থেকে মানুষ ভিত্তিমূলক জ্ঞান পায়, কিন্তু বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা হয় কাজের মাধ্যমে। এজন্য বাজারের চাহিদা শিক্ষা বিভাগকে জানতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভাগ্যবান দেশ যে, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সুবিধা পাচ্ছে। এখন শিক্ষকদের নতুন ধ্যান-ধারণায় সম্পৃক্ত হতে হবে। প্রচুর পরিমাণে প্রশিক্ষণ দরকার এবং বারবার প্রশিক্ষণ দরকার। দক্ষতা ছাড়া শিক্ষার কোনো মূল্য নেই। এজন্য শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে। মানুষের চাহিদা বদলাচ্ছে, নতুন প্রযুক্তি আসছে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় যে কোনো খাতে টিকে থাকতে দক্ষতার বিকল্প নেই।

এসিআই চেয়ারম্যান বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব সামনে। বলা যেতে পারে, নতুন ধারার শিল্পায়ন শুরু হয়েছে। এতে এক শ্রেণি কর্মসংস্থান হারাবে। আবার আরেকটি শ্রেণির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আনিস উদ দৌলা একটি গবেষণার বরাত দিয়ে বলেন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার ফলে ট্রাভেল এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী, ক্যাশিয়ার, সার্ভেয়ার, সাংবাদিক, আইন সহায়তাকারী এবং আর্থিক পরামর্শদাতারা চাকরি হারানোর বেশি শঙ্কায় রয়েছেন। কারণ বর্তমানে মানুষ হাতের মোবাইলে ভ্রমণের সব তথ্য পাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি স্টেট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এম শাহজাহান মিনা বলেন, শেখার আগ্রহ থাকতে হবে। সারা জীবনই শিখতে হবে।