কম সুদে ঋণ পাবেন রপ্তানিকারকরা

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

রপ্তানিতে পতন ঠেকাতে এবার রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুদহার এক শতাংশ কমালো বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত উদ্যোক্তারা এ তহবিল থেকে ৬ মাসের গড় লাইবর রেটের সঙ্গে দেড় শতাংশ যোগ করে যে সুদহার দাঁড়াবে, সেই হারে ঋণ নিতে পারবেন। এতদিন যা লাইবর যোগ আড়াই শতাংশ ছিল। রপ্তানিতে উৎসে কর এক শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশে নামানোর পর এ সুবিধা দেওয়া হলো।

গতকাল এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। রপ্তানিকারকদের সুবিধা দিতে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকেও একই হারে কম সুদ নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে লাইবর যোগ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ সুদে ইডিএফ থেকে অর্থায়ন নিতে পারবে। এতদিন যা লাইবর যোগ দেড় শতাংশ ছিল। লাইবর রেট কমার প্রবণতা থাকায় সব মিলিয়ে সুদহার আরও কমবে বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর এ চার মাসে রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে এক হাজার ২৭২ কোটি ডলারে নেমেছে। এককভাবে গত অক্টোবর মাসে কমেছে ১৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। রপ্তানি কমার এ প্রবণতাকে উদ্বেগজনক মনে করেন রপ্তানিকারকরা। এ প্রেক্ষাপটে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ইডিএফের সুদহার কমানোসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সমকালকে বলেন, পণ্যের উৎপাদন খরচ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিসহ সব মিলিয়ে একটা অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রপ্তানি খাত সাংঘাতিকভাবে ধাক্কা খেয়েছে। এ অবস্থায় সরকার কিছু ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। সরকারকে চিন্তা করতে হবে কীভাবে এ খাতকে আরও টেকসই করা যায়। সুদহার কমানোসহ যে কোনো সহায়তা এ খাতকে টেকসই করতে সহায়ক হবে।

লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার রেট বা লাইবর সারাবিশ্বে বৈদেশিক মুদ্রায় সুদহার নির্ধারণের অন্যতম মানদণ্ড। বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সারাবিশ্বে লাইবর রেটের বহুল ব্যবহার রয়েছে। চলতি সপ্তাহে ৬ মাসের গড় লাইবর রয়েছে ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এক বছর আগে যা ছিল ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এক মাস আগেও ৬ মাসের গড় লাইবর রেট ছিল ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ২০১৬ সালের আগ পর্যন্ত বেশ কয়েক বছর লাইবর এক শতাংশের নিচে ছিল। তবে ওই বছর থেকে বাড়তে বাড়তে প্রায় ৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকে। তবে চলতি বছর কমতির দিকে রয়েছে। কয়েক মাস ধরে লাইবর ধারাবাহিকভাবে কমছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এক বছর আগের লাইবর রেট বিবেচনা করলে ইতোমধ্যে সুদহার প্রায় এক শতাংশ কমেছে। এখন এক শতাংশ কমানোর ফলে রপ্তানিকারকরা সুবিধা পাবেন। এতে করে তারা রপ্তানি বাড়াতে উৎসাহিত হবেন।

বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের আকার বাড়িয়ে ৩৫০ কোটি ডলার করা হয়। আগে যা ৩০০ কোটি ডলার ছিল। রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ ও প্রসারের চলমান ধারা অব্যাহত রাখতে বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৮৯ সালে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল গঠিত হয়। মাত্র ৩৮ লাখ ৭২ হাজার ডলার নিয়ে এ তহবিলের যাত্রা শুরু হয়। ধাপে ধাপে তহবিলের আকার বাড়িয়ে এ পর্যায়ে আনা হয়েছে। রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন- তুলা, সুতা, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে রপ্তানিকারকরা এ তহবিল থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ পান। তৈরি পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকদের ইডিএফ থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ তহবিল থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণ নেন বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বস্ত্র খাতের সংগঠন বিটিএমএর সদস্য, মিলের একজন মালিক ইডিএফ থেকে একবারে সর্বোচ্চ আড়াই কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। ২০১৮ সালের মে মাসে এ সীমা বাড়ানো হয়। এর আগ পর্যন্ত একজন ঋণ নিতে পারতেন সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার।