জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে ধাঁধা আছে

বিআইডিএসের গবেষণা সম্মেলনে অর্থনীতিবিদরা

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন কয়েকজন অর্থনীতিবিদ। তাদের মতে, জিডিপির যে প্রবৃদ্ধি দেখানো হচ্ছে তা নিয়ে ধাঁধা আছে। কেননা একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও বৈষম্য বাড়ছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএসের গবেষণা সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে এমন মতামত এসেছে। এই অধিবেশনের আলোচ্য বিষয় ছিল 'বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশল পর্যালোচনা'। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুর্শিদ।

প্যানেল আলোচনায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর সাবেক উপদেষ্টা ড. রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে একটা ধাঁধা আছে। প্রবৃদ্ধি বাড়ছে অথচ ২৩ জেলায় দারিদ্র্যের হার কমেনি। এটা ঠিক মেলে না। গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিয়ে যখন কথা হয়, তখন বড় প্রশ্ন দাঁড়ায় বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে দেশের অর্থনীতি কতটা সমন্বিত। এক হাজার ৪০০ পণ্য রপ্তানিযোগ্য হলেও একমাত্র তৈরি পোশাকই বিশ্ববাজারে ভালো করছে। বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে আরও বেশি সমন্বিত না হলে ৮ থেকে ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের অর্থনীতি কোনো দিকে যাচ্ছে সে বিষয়ে পক্ষ-বিপক্ষ মত আছে। কেউ কেউ মনে করেন, যেভাবে চলছে দেশ তাতে উন্নয়নের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা আছে। অন্য পক্ষ মনে করে, প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ব্যাহত হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের এই মতামত প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলে অবশ্যই আশঙ্কা থাকবে। প্রবৃদ্ধির যে ফল পাওয়ার কথা, তা পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থনীতিতে নানা বিকৃতি আছে। ভর্তুকি এবং কর রেয়াতে সমস্যা আছে। বৈষম্য নিয়ে সুস্পস্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার কিছু না থাকলে তা প্রবৃদ্ধির ওপর ছায়া ফেলতে পারে। প্রবৃদ্ধি শব্দটি এখন অনেকের আলোচনায় উপভোগ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনায় অন্যান্য প্রসঙ্গে ড. রিজওয়ানুল ইসলাম আরও বলেন, বৈষম্য কমাতে প্রথাগত কৌশল কাজ করছে না। এই কৌশলের সঙ্গে নতুন কৌশল নেওয়ার মাধ্যমে সব ধরনের বৈষম্য কমানো যায়। তিনি বলেন, চীনা বিনিয়োগ ভিয়েতনাম এবং মিয়ানমারে যাচ্ছে। বাংলাদেশে কেন আসছে না তা খতিয়ে দেখা দরকার।

বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন বলেন, শিক্ষায় মানের দুর্বলতায় মানব সম্পদনির্ভর প্রবৃদ্ধিতে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং নিচু উৎপাদনশীলতায় এগোচ্ছে। তবে সরকারি-বেসরকারি উভয় উদ্যোগে অবকাঠামো এবং মানব সম্পদে যে বিনিয়োগ হচ্ছে তার পথরেখা ঠিকই আছে। তিনি বলেন, আরও ১০ বছর ছয় শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা গেলে দারিদ্র্যের হার তিন শতাংশে নেমে আসবে। ড. কে এ এস মুর্শিদ বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে নীতি পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে হবে। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতায় মনোযোগ দিতে হবে।

এই অধিবেশনের মধ্য দিয়ে বিআইডিএসের দুই দিনের গবেষণা সম্মেলন শেষ হয়। গত দুই দিনে ১৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। গবেষক, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়নকর্মীরা সম্মেলনে অংশ নেন।