এলডব্লিউজি সনদ পেতে উদ্যোক্তার ভূমিকা বেশি

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেছেন, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ পেতে উদ্যোক্তাদেরই উদ্যোগী হতে হবে। সরকার অবকাঠামো সুবিধা তৈরি করে দেবে। তবে কারখানার উন্নয়ন, কর্মপরিবেশ, পরিবেশের সুরক্ষাসহ এলডব্লিউজির অন্যান্য শর্ত উদ্যোক্তাদের পূরণ করতে হবে।

চামড়াশিল্প নিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গতকাল সোমবার এ কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী। রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে শিল্প সচিব আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ, ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল, সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার ২২০ বিলিয়ন ডলারের। অথচ বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ১ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। তাই এ খাতের উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, দেশের চামড়াজাত পণ্যে এলডব্লিউজির সার্টিফিকেশন না থাকায় রপ্তানি বাড়ছে না। এ সনদ অর্জনের জন্য সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এটির ভিত্তিতে যেখানে প্রয়োজন সেখানে উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। তবে সনদ অর্জনে বড় ভূমিকা রাখতে হবে উদ্যোক্তাদেরই।

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, এলডব্লিউজি সার্টিফিকেশনের জন্য সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে যথাযথভাবে চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্প শেষ করা। এ কাজ যথাযথভাবে করতে শিল্প মন্ত্রণালয় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। চলতি মাসের মধ্যেই এটি শেষ হবে। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের উদ্যোক্তারা যেভাবে নিজেদের স্বার্থে কারখানার উন্নয়ন ঘটিয়েছেন, ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স অনুসরণ করেছেন, ঠিক একইভাবে ট্যানারি মালিকদেরও নিজে উদ্যোগী হতে হবে। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী কমপ্লায়েন্ট হতে হবে।

অন্যান্য ব্যবসায়ীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, জনগণকে জিম্মি করে ফায়দা লোটার নাম ব্যবসা নয়। দেশে অন্য খাতের ব্যবসায়ীরা যা করছেন, উন্নত দেশে তার নজির নেই।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে ফিনিশড লেদার ও লেদার গুডস আমদানি হচ্ছে। অথচ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের চামড়া থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারের গ্রহণযোগ্য পণ্য উৎপাদন সম্ভব। শিল্প সচিব বলেন, সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপনের কাজ চলতি মাসে পুরোপুরি শেষ হবে। কর্মশালায় শিল্পনগরীর অগ্রগতি নিয়ে সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন শিল্প সচিব। এলডব্লিউজির গুরুত্ব তুলে ধরেন অস্টেন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইবনুল ওয়ারা। চামড়া খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু ইউসুফ।