বন্দর আধুনিকায়নের তাগিদ ইইউর

ব্যবসা পরিবেশ নিয়ে ঢাকায় সংলাপ

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দর ও ঢাকা বিমানবন্দরের সেবা আধুনিক করার তাগিদ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। স্বচ্ছ ভ্যাট ও কর-কাঠামো এবং বিচার ব্যবস্থার কার্যকর উন্নয়নেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া আমদানিতে শুল্ক্কহ্রাস এবং শুল্ক্কায়ন প্রক্রিয়ায় উন্নয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন ইইউ প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ-ইইউ ব্যবসা পরিবেশ সংলাপে তারা এসব পরামর্শ দেন। গতকাল রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় ইইউর হেড অব মিশন রেঞ্জি তেরিংকের নেতৃত্বে জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইইউর আট দেশের রাষ্ট্রদূত এবং অন্যান্য কর্মকর্তা অংশ নেন। সংলাপে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাধা দূর করে সহায়ক পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালে এ সংলাপ শুরু হয়। বর্তমানে ইইউ বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। গত বছর বাংলাদেশ ১৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে ইইউর বিভিন্ন দেশে। ওই বছর ইইউ থেকে আমদানি করেছে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগে ইইউর অবস্থান দ্বিতীয়।

সংলাপে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইইউতে অস্ত্র বাদে সব পণ্যে শুল্ক্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধায় বাংলাদেশ উপকৃত হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের পর 'জিএসপি প্লাস'-এর আওতায় এ সুবিধা অব্যাহত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্যের সঙ্গে তাল মেলাতে সব বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এর কার্যক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। বাণিজ্য সহজ করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগই নিয়েছে সরকার।

সংলাপে বাণিজ্য বাড়াতে ইইউর বক্তব্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য আরও বাড়াতে সমস্যা চিহ্নিত করা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই এ সংলাপের উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য সামনে রেখে এরই মধ্যে অনেক সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এতে করে উভয় পক্ষই উপকৃত হয়েছে। ২০১৬ সালের প্রথম সংলাপের পর বিনিয়োগ, ওষুধ, শুল্ক্ক, কর, অর্থনৈতিক প্রবাহ- এই পাঁচ খাতে পৃথক পাঁচটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উন্নয়নে এসব গ্রুপ কাজ করছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে আগামীতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে আশা করেন মন্ত্রী।

সংলাপে ইইউর হেড অব মিশন বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণে আইন ও নীতির অভাব নেই। তবে এসব আইন ও নীতির যথাযথ বাস্তবায়নে ঘাটতি আছে। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির পরিপূর্ণ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের কথা বলেছেন তারা। সেবা খাতে বিনিয়োগ সীমা তুলে দেওয়া এবং চট্টগ্রাম বন্দর ও ঢাকা বিমানবন্দরের সেবা আধুনিকায়নের পরামর্শ দিয়েছেন।