করছাড় পেতে সময় বাড়ছে তিন বছর

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২০      

বিশেষ প্রতিনিধি

দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতে কর সুবিধা নেওয়ার সময় আরও বাড়ানো হয়েছে। এখন বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে তিন বছর বাড়তি সময় পাবে এ খাতের কোম্পানি।

আগের নিয়ম অনুযায়ী, করছাড় পেতে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। এখন বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার শেষ সময় তিন বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার শর্তে করছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে। তা না হলে বর্তমান সুবিধা মিলবে না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন করেছে। বর্তমানে বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো আগামী ২০৩৪ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা পাচ্ছে। ওই সময় পর্যন্ত কোনো কর দিতে হবে না। নতুন নিয়মে, বিদ্যুৎ খাতে কর অবকাশের বিদ্যমান সময় বহাল রেখে শুধু উৎপাদনের সময় বাড়ানো হলো। এর ফলে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেকটু সুবিধা পাবেন। এনবিআর সূত্র জানায়, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে এ সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে।

দেশে এখন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ১৩৪টি। এর মধ্যে ৮০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়েছে বেসরকারি উদ্যোগে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন নীতিমালার নির্ধারিত সব শর্তপূরণ সাপেক্ষে দেশের যেসব বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির (কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি ছাড়া) বাণিজ্যিক উৎপাদন ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের মধ্যে হবে, সেগুলো এ সুবিধা পাবে।

এ ছাড়া আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে করছাড় দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। এতে বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের আয়ের ওপর করছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে তাদের আসার দিন থেকে পরের তিন বছর আয়কর দিতে হবে না। কোম্পানির বিদেশি ঋণে দেওয়া সুদের ওপর কোনো কর আরোপ হবে না।

এর বাইরে বিদ্যুৎ কোম্পানির দেওয়া রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নো-হাও অ্যান্ড টেকনিক্যাল অ্যাসিট্যান্স ফির ওপর কর দিতে হবে না। কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরে পাওয়া মূলধনি মুনাফার ওপরও কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে কোম্পানিগুলোকে যথাযথভাবে হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।