এপ্রিল থেকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ সম্ভব

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির বেশিরভাগ ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে সরকার সিঙ্গেল ডিজিট হারে ঋণ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আশা করেন, সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আগামী ১ এপ্রিল থেকে সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি শামস মাহমুদের নেতৃত্বে সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে এক বৈঠকে গভর্নর এমন মন্তব্য করেন। গভর্নরের কার্যালয়ে এ সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা চেম্বারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার আলোচনার তথ্য পাঠানো হয়েছে।

সভায় ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধিরা সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনা, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানোসহ নানা উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানান। তারা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি চিহ্নিত করার পদ্ধতি বের করার সুপারিশও করেন।

সভায় গভর্নর আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে উদ্যোগ নিয়েছে এবং দেশের ব্যবসায়ী সমাজ এ সুযোগ নিয়ে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হতে পারবে। খেলাপি ঋণ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি চিহ্নিতকরণে আইনে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা রয়েছে। তবে কোনো উদ্যোক্তা যদি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস সংযোগ অথবা ব্যাংক ঋণ প্রভৃতি সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না পেয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে বিশেষ বিবেচনায় অনিচ্ছাকৃত বলা যেতে পারে। কিন্তু সত্যিকারের ঋণখেলাপি চিহ্নিতকরণে ব্যাংকগুলোকে যত্নবান হওয়া আবশ্যক। বন্ড মার্কেট বিষয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্ট্যাম্প ডিউটি প্রত্যাহার করেছে, যা বাংলাদেশের বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এবং দেশে একটি সেকেন্ডারি বন্ড মার্কেট চালু একান্ত জরুরি বলে মত দেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) যথাযথ ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ ৮ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও বেসরকারি বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়ছে না। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে। সর্বশেষ গত নভেম্বরে এটি বেড়েছে মাত্র ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এ জন্য ব্যাংক ঋণের সুদের উচ্চহার অন্যতম কারণ বলে তিনি মত দেন। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ স্থবিরতা কাটাতে তিনি ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ চান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং ইকোসিস্টেম, সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রাক্কলিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত নীতি সহায়তা দিচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআই পরিচালক আন্দালিব হাসান, আরমান হক, নূহের লতিফ খান এবং ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী অংশ নেন। ডিসিসিআইর ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এনকেএ মবিন, পরিচালক দীন মোহাম্মদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন, মনোয়ার হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার শামসুজ্জোহা চৌধুরী, এসএম জিল্লুর রহমান সভায় উপস্থিত ছিলেন।