বেসরকারি খাতের স্ট্যান্ডার্ড ও এনআরবি গ্লোবালের পর এবার যমুনা ব্যাংককে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে রূপান্তরের অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারির বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভা থেকে স্ট্যান্ডার্ড ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়। সুদভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে দীর্ঘদিন সেবা দিয়ে আসা এসব ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক হিসেবে কাজ করবে।

বেসরকারি খাতের যমুনা ব্যাংক ২০০১ সালে কার্যক্রম শুরু করা তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাংক। ব্যাংকটি পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান। ব্যাংকটির পরিচালনার সঙ্গে আরও রয়েছে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর পরিবার। গোলাম দস্তগীর গাজী এর আগে এই ব্যাংকের পরিচালক ও চেয়ারম্যান ছিলেন। তার ছেলে গাজী গোলাম মর্তুজা বর্তমানে পরিচালক।

যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা ইলিয়াছ উদ্দিন আহমদ সমকালকে বলেন, তারা বেশ আগে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরের আবেদন করে রেখেছেন। বর্তমানে ব্যাংকটির দুটি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা এবং বেশ কয়েকটি শাখায় ইসলামী ব্যাংকিং ডেস্ক রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যায়ে নীতিগত অনুমোদন দিল। এখন ব্যাংকের মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলসসহ বিভিন্ন বিষয় পরিবর্তনের পর পুরোপুরি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং শুরু হবে।

জানা গেছে, আরও কয়েকটি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তরের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে অন্যতম আইএফআইসি, এনসিসি ও সাউথ বাংলা ব্যাংক। প্রচলিত ধারার একটি ব্যাংক ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ৮৫ টাকা ঋণ দিতে পারে। ইসলামী ব্যাংকগুলো সেখানে ৯০ টাকা দিতে পারে। এ ছাড়া প্রচলিত ধারার ব্যাংকের মতো ইসলামী ব্যাংকগুলোর সাড়ে ৫ শতাংশ হারে নগদ জমা সংরক্ষণ করতে হয়। প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোকে ১৩ শতাংশ এসএলআর রাখতে হলেও ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য তা সাড়ে ৫ শতাংশ।

বর্তমানে দেশে মোট ৬০টি ব্যাংক কার্যক্রমে আছে। এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক রয়েছে আটটি। আর ১৭টি ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখা বা উইন্ডো রয়েছে। সারাদেশে সব ব্যাংক মিলে শাখা রয়েছে ১০ হাজার ৫৭৮টি। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকিং শাখা আছে এক হাজার ৩৮০টি। আর গত ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরো ব্যাংক খাতের আমানত রয়েছে ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রয়েছে দুই লাখ ৮০ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। মোট আমানতের যা ২৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতের মোট ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে রয়েছে দুই লাখ ৬২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৪ দশমিক ৮২ শতাংশ। ঋণ ও আমানতে প্রচলিত ধারার ব্যাংকের তুলনায় ইসলামী ব্যাংকগুলোতে প্রবৃদ্ধি বেশি।

স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্সের লাইসেন্স ইস্যুর সিদ্ধান্ত : ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের নামে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে গতকালের বৈঠকে। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। পিপলস লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চরম খারাপ অবস্থার মধ্যে নতুন করে এ প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন দেওয়া হলো। এর আগে গত জানুয়ারিতে স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্সের নামে এলওআই ইস্যু হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান আঞ্জুমান আরা শহীদ।

মন্তব্য করুন