বাজেটই শেষ কথা নয়

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, দেশের ও মানুষের উন্নয়নের জন্য বাজেটই শেষ কথা নয়। মানুষের প্রয়োজনে যে কোনো সময় যে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে টাকারও অভাব হবে না। সরকারের এখন একটাই লক্ষ্য, করোনাভাইরাসের কারণে যারা নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন, তাদের আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা। আর এ জন্য সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঠিক রাখা জরুরি। সরকার সেই কাজই করছে। এ ক্ষেত্রে সবকিছু বাজেট থেকেই করতে হবে এমন নয়। বাজেটের বাইরে কিছু দরকার হলে সরকার তা করবে।

বুধবার আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচেম) ইন বাংলাদেশ আয়োজিত 'বাজেট ফর উইনিং ব্যাক দ্য ইকোনমি' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনলাইনে আয়োজিত সভা পরিচালনা করেন সংগঠনটির সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলা হচ্ছে। কিন্তু এই অঙ্ক এখন আর যথার্থ নয়। মানুষ কাজে ফিরেছে। সরকারও তাদের সহায়তা করছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরকার সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ও এডিবির কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে কোনো কাজ করবে, তার জন্য টাকার কোনো অভাব নেই।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব। ব্যাংক ঋণের কতটুকু বাণিজ্যিক ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া হবে, তা বলা হয়নি। বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই।

অ্যামচেমের সাবেক সভাপতি আফতাব উল ইসলাম বলেন, এসএমই খাত করোনাভাইরাসের কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ খাত এগিয়ে নিতে এখন প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ করে দিতে হবে। কিন্তু বাজেটে তা নেই।

পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, সহজ ও কম খরচে পরিবহনের জন্য রেল ও নৌপথে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সরকার সড়কপথে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, বন্দর ও কাস্টমের অটোমেশন এগোচ্ছে। এদিকে, ভ্যাটও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। তবে কর্মকর্তাদের এ ব্যবস্থায় মনোযোগ খুবই জরুরি।

সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, বাজেটে ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে, তাতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমতে পারে। অন্যদিকে, কালো টাকা সাদা করার অনৈতিক সুযোগ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে আরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার ছিল বলে তিনি উলেল্গখ করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি শামস মাহমুদ, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, ইউএসএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্রিক ব্রাউন বক্তব্য দেন।