আবারও গতি হারানোর পথে শেয়ারবাজার। টানা পাঁচদিন ধরে কমছে শেয়ারদর, সূচক ও লেনদেন। গতকাল রোববারও চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে দিনভর ছিল নিম্নমুখী প্রবণতা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শেয়ার বিক্রির চাপে সূচক ছিল নিম্নমুখী। দিন শেষে প্রধান সূচক কমেছে ১৮ পয়েন্টেরও বেশি। এ নিয়ে সর্বশেষ পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইএক্স সূচক হারাল প্রায় ৪৯ পয়েন্ট। এর আগের পাঁচ কার্যদিবসে অবশ্য সূচকটি বেড়েছিল প্রায় ১১৮ পয়েন্ট।

সূচক ও শেয়ারদর কমার প্রভাব পড়েছে লেনদেনেও। গত সপ্তাহের দৈনিক ৩০০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার লেনদেন নেমে এসেছে ২০০ কোটি টাকার ঘরে। তবে ব্যতিক্রমী ধারা দেখা গেছে বীমা খাতে।

বাজার সংশ্নিষ্টরা জানান, গত ৮ জুলাই থেকে স্টক এক্সচেঞ্জে স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম শুরুর দিন থেকে হঠাৎ গতি আসে শেয়ারবাজারে। এর আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর যেসব পরিচালক ২ শতাংশের কম শেয়ার ধারণ করছেন, তাদের পদে থাকতে ৪৫ দিনের মধ্যে কমিশন নির্দেশিত পরিমাণ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে নতুন আদেশ দেয়। এটিও বাজারে নতুন উদ্দীপনা আনে। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে মন্দার মধ্যে ছিল বাজার। করোনাভাইরাস পার্দুভাবের পর তা আরও খারাপ হয়। এদিকে গত কয়েক দিনের নিম্নমুখী ধারার বিপরীতে ব্যতিক্রমী অবস্থান দেখা যাচ্ছে বীমা খাতে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের পদে থাকতে হলে সংশ্নিষ্ট কোম্পানির কমপক্ষে ২ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে- বিএসইসির এমন আদেশের পর বীমা খাতের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। এর কারণ বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের অনেকের ২ শতাংশ শেয়ার নেই। অন্য কোম্পানির চেয়ে এমন পরিচালকের সংখ্যা এ খাতে বেশি। পরিচালক পদ টিকিয়ে রাখতে এসব কোম্পানির পরিচালকরা ঘোষণা দিয়ে এবং কেউ বেনামে শেয়ার কিনছেন বলে বাজার সূত্র জানিয়েছে। ডিএসইতে ৩২৯ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭৯টির দর। বাকি ২০০টি আগের দিনের দরে বা ফ্লোর প্রাইসে কেনাবেচা হয়েছে।

দরবৃদ্ধির তালিকা পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর অবস্থান ছিল ওপরের সারিতে। সাড়ে ৪ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানির সাতটিই ছিল বীমা খাতের। গতকাল লেনদেন বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার। কোম্পানিটির মোট ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। যদিও বৃহস্পতিবারের তুলনায় শেয়ারপ্রতি তিন টাকা ৮০ পয়সা দর হারিয়ে ৭০ টাকা ৫০ পয়সায় নেমেছে কোম্পানিটির শেয়ারদর। একই অবস্থা ছিল স্কয়ার ফার্মায়।

অপর শেয়ারবাজার সিএসইতে ১৬১ কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টির দর বেড়েছে, কমেছে ৪৯টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৮২টি শেয়ারের দর। দিনব্যাপী কেনাবেচা হওয়া সব শেয়ারের বাজার মূল্য ছিল ছয় কোটি ৮০ লাখ টাকা।

মন্তব্য করুন