কভিড-১৯-এর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, ব্র্যান্ড এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সংলাপ এবং যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ব্যবসার ধরনে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনে মনোযোগ বাড়াতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে অর্থনৈতিক এবং অন্যান্য সংকট বৈশ্বিক হলেও এর সমাধান নিজ দেশ থেকে ভাবতে হবে।

বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯-এর সংক্রমণের প্রভাবে তৈরি পোশাক খাতের করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এমন পরামর্শ দিয়েছেন দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা এবং আমদানিকারক ও সরকারি কর্মকর্তারা। সোমবার ফ্রান্স-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিআইএফবি) এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) যৌথভাবে এর আয়োজন করে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সভা পরিচালনা করেন পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, বর্তমানের সংকটকে একটা সম্ভাবনায় রূপান্তর করা যায়। পিপিই ও মাস্ক রপ্তানির বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রপ্তানি বাড়াতে পণ্যের মান ও ক্রেতাদের সঙ্গে লেনদেনে স্বচ্ছতা রাখতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি কানাডার একটি প্রতিষ্ঠান তাদের দূতাবাসের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি অভিযোগ করেছে। এতে তারা বলেছে, ঢাকার একটি পোশাক কারখানা তাদের সঙ্গে চুক্তিতে উল্লিখিত মানের পোশাকের চেয়ে নিম্নমানের পোশাক দিয়েছে। ওই চালানের মূল্যমান দুই কোটি ডলার। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, পোশাক খাতে বিদেশি বিনিয়োগে বাধা দিচ্ছে বিজিএমইএ। এটা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত। দীর্ঘমেয়াদে পোশাক খাত এতে লাভবান হবে না। বরং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে আরও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। প্রযুক্তি জানার সুযোগ তৈরি হবে। তার মতে, কভিডের সমস্যা বৈশ্বিক হলেও সমাধান নিজ নিজ দেশকেই করতে হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, কভিডের কারণে তৈরি পোশাকের সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। ক্রেতাদের দৃষ্টিভঙ্গিও এখন একটা বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করছে কভিড-পরবর্তী পোশাক-বাণিজ্য কেমন হবে।

পোশাক খাতে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কিহাক সাং বলেন, বাংলাদেশের তুলনায় ভিয়েতনাম এখন দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একই প্রতিষ্ঠানের কারখানায় বাংলাদেশের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি উৎপাদন হচ্ছে ভিয়েতনামের কারখানায়।

বাংলাদেশে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ডেকাথলন স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী দীপক দিসুজা বলেন, তিনটি পথ খোলা রয়েছে বাংলাদেশের হিস্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে। এগুলো হচ্ছে- লিড টাইম কমিয়ে আনা, পণ্যে বৈচিত্র্য আনা ও তুলানির্ভরতার পরিবর্তে কৃত্রিম তন্তুর পোশাক উৎপাদনে যাওয়া।

ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম বড় বাজার। ৯৬ শতাংশ পণ্যে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ায় প্রতিযোগী অনেক দেশের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সিলর দিলারা বেগম জানান, কভিডের আগে থেকেই ফ্রান্সে বাংলাদেশের রপ্তানি কমছিল। এখন আরও কমেছে। তিনি বলেন, রপ্তানি ছাড়া ফ্রান্সের বিনিয়োগ টানার সুযোগ রয়েছে।

মন্তব্য করুন