কলমানিতে চাপ নেই সুদহারও বাড়েনি

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২০

ওবায়দুল্লাহ রনি

ঈদের আগে কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে নগদ টাকা তোলার বাড়তি চাহিদা থাকে। করোনাভাইরাসের কারণে রোজার ঈদে বেশিরভাগই একেবারে ঘরবন্দি থাকলেও এবার অনেকেই বের হচ্ছেন। কোরবানির পশুর পাশাপাশি নানা কেনাকাটার কারণে রোজার ঈদের তুলনায় এবারে টাকা উত্তোলন বেশি হয়েছে। তবে লেনদেন করতে গিয়ে কোনো বিপত্তির খবর শোনা যায়নি। আর স্বল্প মেয়াদে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের টাকা ধার নেওয়ার সুদের হার বা কলমানি রেট স্বাভাবিক আছে। গেল সপ্তাহে ৫ শতাংশের কম সুদে দৈনিক গড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার মতো লেনদেন হয়েছে।

ঈদের আগে ব্যাংক শাখা খোলা রাখার শেষ দিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। তিন দিন ছুটির পর সোমবার খুলবে। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, অন্য সব বছরের মতো এবারও শেষ লেনদেনের চাপ ছিল। টাকা জমার চেয়ে এদিন উত্তোলন হয়েছে বেশি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান জুলাই মাসের বেতন পরিশোধ করেছে গতকাল। ঈদ বোনাসের পাশাপাশি জুলাই মাসের বেতন পেয়ে কেউ কেউ বেশি টাকা তুলেছেন। আবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সও আসছে ব্যাপক। তবে এখন করোনাভাইরাসের কারণে বাড়তি সতর্কতা এবং এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন হওয়ায় ব্যাংকে আগের মতো দীর্ঘ লাইন দিতে দেখা যায় না।

পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ হালিম চৌধুরী সমকালকে বলেন, অন্যসব বছরের মতো এবারও শেষ দিন ভিড় ছিল। বিশেষ করে মাসের শেষ হওয়ায় ঈদের আগে অনেকে বেতন বোনাস পেয়ে গেছেন। ফলে টাকা উত্তোলনের বাড়তি চাপ ছিল। কলমানির সুদহার ও লেনদেন ছিল স্বাভাবিক। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে শুক্রবারও তৈরি পোশাক শিল্প ও রাজধানীর পশুর হাটের নিকটবর্তী শাখা খোলা থাকবে।

বাংলাদেশ বাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার কলমানিতে লেনদেন হয়েছে ৮ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। গড়ে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ সুদে এ পরিমাণ অর্থ ধার নিয়েছে কয়েকটি ব্যাংক। আগের দিন মঙ্গলবার কয়েকটি ব্যাংক নিয়েছিল ৯ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। বুধবার কয়েকটি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্প মেয়াদে ২ হাজার ৫৯ কোটি টাকা ধার নিয়েছে। আগের দিন কয়েকটি ব্যাংক নিয়েছিল এক হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে, কলমানি ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দৈনিক গড়ে এরকমই ধার নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। আর মাঝে কলমানিতে গড় সুদহার বেড়ে ৫ শতাংশ ছাড়িয়েছিল। গত ৩০ জুন কলমানিতে গড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ সুদে ৮ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়। এরপর সুদহার বাড়া-কমার মধ্যে থাকলেও দৈনিক ৯ হাজার কোটি টাকার কম-বেশি লেনদেন হচ্ছে।

ব্যাংকাররা জানান, শাখায় না এসে অনেকেই এখন অনলাইন প্ল্যাটফরম ও প্লাস্টিক মানি তথা কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করেন। করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ প্রবণতা আরও বেড়েছে। এসব ব্যবস্থায় লেনদেন করতে গিয়ে গ্রাহক যেন কোনো ধরনের বিড়ম্বনার শিকার না হন ব্যাংকগুলোর সে বিষয়ে প্রস্তুতি রয়েছে। ঈদের বন্ধে এটিএম, পস, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং সার্বক্ষণিক সচল রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও নানা নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব মাধ্যমে গ্রাহক হয়রানি অনেক কমেছে।

এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ১১ হাজার ৩৩টি এটিএম বুথ, ৬৫ হাজার ৪৯৯টি পস, এক হাজার ৪০৯টি ক্যাশ ডিপোজিট মেশিন এবং ২৬৬টি ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন স্থাপন করেছে। করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর গত এপ্রিলে লেনদেন ব্যাপক কমেছিল। এসব ব্যবস্থায় লেনদেন কমে ৮ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকায় নেমেছিল। আগের মাস মার্চে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। আগের বছরের একই মাসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বৃহস্পতিবার লেনদেনে কোনো ব্যাংকে বিড়ম্বনার কথা শোনা যায়নি। বন্ধের মধ্যে এটিএম, পস, অনলাইনে লেনদেন বিষয়ে ব্যাংকগুলো এখন অনেক সতর্ক। বন্ধের মধ্যে কোনো গ্রাহক যেন টাকা তুলতে গিয়ে বা লেনদেনে বিড়ম্বনার শিকার না হন সে জন্য সতর্ক করা হয়েছে।