ব্যাংক ঋণে সুদব্যয় কমছে সরকারের

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২০

ওবায়দুল্লাহ রনি

বেসরকারি খাতে সব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ কার্যকরের নির্দেশনার পর এখন ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের সুদহারও কমছে। এক বছর আগে ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলে সরকারকে ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ সুদ দিতে হয়েছে। গত আগস্টে তা নেমে এসেছে ৪ দশমিক ২৭ শতাংশে। সব মেয়াদের ট্রেজারি বিল ও বন্ডের রেট বা সুদহার কমেছে।

সরকারের বাজেট ব্যয়ের এখন সবচেয়ে বড় খাত সুদ পরিশোধ। অভ্যন্তরীণ উৎসে সরকার সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়। এ দুই উৎসে সরকারের ঋণস্থিতি প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা। গত আগস্ট পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৯ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। আর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকার নিয়েছে এক লাখ ৮০ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। এই ঋণের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকারের ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৯ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে ২১ হাজার ৮৩ কোটি টাকা।

ব্যাংকাররা জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যাংকগুলোর নগদ জমা বা সিআরআর কমানো, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের জন্য বেশ কয়েকটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠনের ফলে অধিকাংশ ব্যাংকের কাছে এখন প্রচুর উদ্বৃত্ত অর্থ জমা হয়েছে। গত এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ বেঁধে দিয়েছে সরকার। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণে সুদহার কমে গেছে। অন্যদিকে সরকারকে দেওয়া ঋণে কোনো ঝুঁকি নেই। এ কারণে ব্যাংকগুলোর মধ্যে সরকারকে ঋণ দেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ট্রেজারি বিল ও বন্ডের বিপরীতে ৯১ দিন থেকে শুরু করে ২০ বছর পর্যন্ত মেয়াদে ঋণ নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, ট্রেজারি বিলের বিপরীতে ১৮২ দিন মেয়াদি ঋণের সুদহার গত বছরের আগস্টে ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ ছিল। গত আগস্টে তা কমে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমেছে। ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলে সুদহার ৮ শতাংশ থেকে নেমেছে ৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে। ট্রেজারি বন্ডের মধ্যে ২ বছর মেয়াদি ঋণের সুদহার ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ৮১ শতাংশে নেমেছে। পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ডে সুদহার ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে নেমেছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। দশ বছর মেয়াদিতে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশে নেমেছে। ১৫ বছর মেয়াদি ঋণে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে নেমেছে ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ২০ বছর মেয়াদি ঋণের সুদহার ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে নেমেছে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদব্যয় বাবদ খরচ ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা বাজেটের যা ১০ দশমিক ২৬ শতাংশ। গত অর্থবছর অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদব্যয়ের প্রাক্কলন ছিল ৫২ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যয় ছিল ৪৬ হাজার ১৫ কোটি টাকা। বিদেশি ঋণের তুলনায় অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় অনেক বেশি।

সংশ্নিষ্টরা জানান, গত অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যে ধীরগতির কারণে রাজস্ব আয়ে খারাপ অবস্থা ছিল। করোনায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। গত অর্থবছরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও রাজস্ব আয় কম হয় ৮২ হাজার ৯১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ে তেমন গতি নেই। আবার নানা শর্তের মধ্যেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ৭ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা পেয়েছে সরকার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৭১২ কোটি টাকা।