কর্মরতদের দক্ষতা বাড়াতে হবে

ঢাকা চেম্বারের ওয়েবিনারে বক্তারা

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২০

সমকাল প্রতিবেদক

রপ্তানি বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানো ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্মরত কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ এসেছে এক অনলাইন আলোচনা সভায়। বক্তারা বলেছেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কর্মরত কর্মীদের কমপক্ষে অর্ধেকের দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উপযুক্ত জনবল তৈরি করতে হবে। এ জন্য শিল্প ও শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় জরুরি।

গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত 'নতুন কর্মসংস্থান এবং দক্ষতার প্রেক্ষিতে ভবিষ্যৎ ব্যবসা-বাণিজ্য' শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির উপযোগী জনবল তৈরিতে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কর্মরত জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান দুলাল কৃষ্ণ সাহা তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে বেসরকারি খাত এবং এনজিওকে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগোলেও দক্ষ জনবল তৈরির কার্যক্রমে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। এ অবস্থা উত্তরণে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ইউনিডোর আবাসিক প্রতিনিধি জাকি উজ জামান বলেন, পণ্যের বহুমুখীকরণ করা সম্ভব হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। আইএলওর আবাসিক প্রতিনিধি তুমো পুটিয়ানেন বলেন, ভবিষ্যতের প্রয়োজনের নিরিখে শ্রম খাতের আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি।

ওয়েবিনারের মূল প্রবন্ধকার পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম মাশরুর রিয়াজ বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও দক্ষতা উন্নয়নে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার। শিল্প ও শিক্ষা খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতিমালার সংস্কার, কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মরত জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বাড়ানো এবং পিপিপির আওতায় দক্ষতা উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ আবশ্যক বলে মত দেন।

জেনারেশন আনলিমিটেড, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ম্যারিয়্যান ওহলার্স বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নে এখনই কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন জরুরি। এ্যাঙ্করলেস বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাহাত আহামদ বলেন, বাংলাদেশের স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তাদের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ। তিনি বলেন, জনসংখ্যার আধিক্য থাকলেও বাংলাদেশের শিল্প খাতে দক্ষ লোকবলের অভাব রয়েছে এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ বেকার। এ অবস্থায় প্রথাগত দক্ষতার পাশাপাশি নতুন পরিস্থিতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে কর্মরত জনগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশকে পুনঃদক্ষ করে তুলতে হবে।