সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে নগদ সহায়তা নয়

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২১     আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২১

শেখ আবদুল্লাহ

এক দশক পরে গত অর্থবছরে সরকার চাল রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা ঘোষণা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) ও কয়েকটি বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী সুগন্ধি চালে নগদ সহায়তা চেয়ে আবেদন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সুগন্ধি চাল রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা বা ভর্তুকি প্রযোজ্য হবে না। বিষয়টি স্পষ্ট করে ব্যবসায়ী ও ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কাজ করছে। শিগগিরই সার্কুলার জারি করা হবে বলে জানা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১০ সালের আগে চাল রপ্তানিতে নগদ সহায়তা দেওয়া হতো। এরপর ২০১৯ সাল পর্যন্ত চাল রপ্তানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং নগদ সহায়তা দেওয়া হয়নি। ২০১৯ সালে দেশের ধানের বাম্পার ফলনের পর কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পুনরায় চাল রপ্তানি উৎসাহিত করা হয়। গত বছর ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলারে জানায়, দেশে উৎপাদিত ধান সংগ্রহ করে নিজস্ব কারখানায় প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে রপ্তানি করা চালে এফওবি মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে প্রক্রিয়াকারী-রপ্তানিকারক ভর্তুকি পাবেন। ওই সার্কুলারে চালের কোনো ধরন উল্লেখ করা হয়নি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা ঘোষণা করা হয়।

সার্কুলার অনুযায়ী সুগন্ধি চাল রপ্তানিকারকরা নগদ সহায়তা পাওয়ার আবেদন করেছেন। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ভর্তুকি প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সুগন্ধি চাল রপ্তানি কখনও উন্মুক্ত করা হয়নি। সব সময় রপ্তানিকারককে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে এর অনুমোদন নিতে হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেওয়ার সময় যেসব শর্ত দেয়, তার মধ্যে নগদ সহায়তা প্রযোজ্য হবে না বলে উল্লেখ থাকে।

বাপার সাধারণ সম্পাদক ইকদাতুল হক সমকালকে বলেন, সমিতির পক্ষ থেকে এবং দেশের কয়েকটি বড় ব্যবসায়ীগোষ্ঠী সুগন্ধি চাল রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা চেয়েছিল। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরের সার্কুলারের আওতায় সুগন্ধি চাল নগদ সহায়তা পাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ভর্তুকি আছে কি নেই, তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্পষ্টতা রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী এ ধরনের ভর্তুকি দাবি করে আবেদন করছেন। এজন্য স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হবে যে, এ ধরনের চাল রপ্তানিতে ঘোষিত নগদ সহায়তা প্রযোজ্য হবে না।

বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা বলছেন, প্রধানত যেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের লোকজন বেশি রয়েছে, সেখানে সুগন্ধি চালের চাহিদা বেশি। এ ছাড়া পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে এর চাহিদা বেড়েছে। বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এবং মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের সুগন্ধি চাল রপ্তানি হচ্ছে। ব্রি ধান-৩৭, ব্রি ধান-৩৮সহ বিভিন্ন প্রজাতির চাল রপ্তানি হচ্ছে এসব দেশে। তবে ব্যবসায়ীরা মনে করেন, বর্তমানে আগাম অনুমোদন নিয়ে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে হয়। এ ব্যবস্থা সরকার তুলে নিলে রপ্তানি আরও বাড়বে। অনেকেই আগাম অনুমোদন নেওয়ার জটিলতার কারণে রপ্তানিতে যাচ্ছেন না।