নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১০%

ছয় মাসের চিত্র

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২১

আবু হেনা মুহিব

অতিমারি কভিডের প্রভাবে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। রপ্তানি খাতের প্রধান পণ্য তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে প্রচলিত ও অপ্রচলিত সব বাজারে। তবে বেশি খারাপ অবস্থা অপ্রচলিত বা নতুন বাজার হিসেবে পরিচিত দেশে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) এসব বাজারে পোশাক রপ্তানি কম হয়েছে ১০ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে সার্বিক রপ্তানি অর্থাৎ সব বাজারে বাংলাদেশের কম হয়েছে শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ। আর পোশাকের রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ। প্রচলিত বাজারের মধ্যে ২৮ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পোশাক রপ্তানি কম হয়েছে ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। একক প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। কানাডায় রপ্তানি কম হয়েছে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ।

ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে প্রচলিত বাজার বা পুরোনো বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য ২৫টি দেশ এবং অন্যান্য বাজারকে অপ্রচলিত বা নতুন বাজার ধরা হয়ে থাকে। আলোচ্য সময়ে এসব বাজারে রপ্তানি হয়েছে ২৪৬ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল এক হাজার ২৭২ কোটি ডলার। রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণে মোট রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের অবদান কমেছে। গত ছয় মাসে এ বাজারের অংশ ১৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৭ শতাংশ। পোশাকের মোট রপ্তানিতে ইইউর অংশ এখন ৬২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আগের একই সময়ে ছিল ৬১ দশমিক ৩০ শতাংশ। মোট রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ এখন ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আগের একই সময়ে ছিল ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার জাপান। দেশটিতে আলোচ্য সময়ে রপ্তানি কমেছে ১৬ শতাংশ। দেশটিতে এ সময় মোট ৪৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৫৩ কোটি ডলার। অপ্রচলিত সম্ভাবনাময় বড় বাজারের মধ্যে চীনে রপ্তানি কম হয়েছে ৩২ শতাংশ। ২০ কোটি থেকে ১৪ কোটি ডলারে নেমে এসেছে পোশাক রপ্তানি। গুরুত্বপূর্ণ বাজার ভারতে রপ্তানি কম হয়েছে ১৯ শতাংশ। রপ্তানি ২৮ থেকে কমে হয়েছে ২৩ কোটি ডলার। অপ্রচলিত শ্রেণির আলোচিত বাজারের মধ্যে তুরস্কে পোশাক রপ্তানি কম হয়েছে ১৪ শতাংশ। ব্রাজিল ও চিলিতে যথাক্রমে ৩৩ শতাংশ এবং ৩৫ শতাংশ কম হয়েছে রপ্তানি।

এ বাস্তবতায় অপ্রচলিত বাজার নিয়ে বেশি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছেন উদ্যোক্তা রপ্তানিকারকরা। তারা বলছেন, অপ্রচলিত বাজার হিসেবে যেসব দেশকে বিবেচনা করা হয়, তাদের অনেকেই নিজেরা রপ্তানি করে থাকে। জানতে চাইলে টেক্সওয়েভের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিকুর রহমান তুহিন সমকালকে বলেন, এসব কারণের বাইরে আরও একটি বড় কারণ হচ্ছে, অনলাইনে বিক্রি। ইউরোপ-আমেরিকায় অনলাইনে বেচা-বিক্রি চলছে। সে কারণে রপ্তানি হ্রাসের হার কম। তিনি বলেন, প্রচলিত বাজার নির্ভরতা কমাতে অপ্রচলিত বাজার নিয়ে একটা আশা তৈরি হয়েছিল। এখন এসব বাজার নিয়ে তারা চিন্তায় আছেন। কবে নাগাদ এ অবস্থা কাটবে তা বলা মুশকিল।