করোনার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সহায়তার জন্য যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট মওকুফ করেছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের সুবিধা চায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। অন্যদিকে করপোরেট করহারও কমানোর প্রস্তাব করেছে ব্যবসায়ীদের এ সংগঠন। গতকাল শনিবার ডিসিসিআই আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনের নবনির্বাচিত সভাপতি রিজওয়ান রাহমান।

মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআইর ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এন কে এ মবিন, সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন, পরিচালক মো. শাহিদ হোসেন, গোলাম জিলানী, হোসেন এ সিকদার এবং নাসিরউদ্দিন এ ফেরদৌস। গত ডিসেম্বরে নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি রিজওয়ান রাহমান সমসাময়িক অর্থনীতির ওপর ১১টি এজেন্ডা ও ২০২১ সালে ডিসিসিআইর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, বার্ষিক বিক্রয় মূল্যের (টার্নওভার) পরিবর্তে সংযোজিত মূল্য বা মুনাফার ওপর ভ্যাট ধার্য করা এবং করপোরেট কর কমানো উচিত। আগামী তিন বছরে করপোরেট করহার ধাপে ধাপে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, করোনার মধ্যেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ, মূল্যস্ম্ফীতি ৫ দশমিক ২৯ শতাংশে সীমিত থাকা এবং রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি থাকা ভালো খবর। দেশে খারাপ অবস্থার কারণে প্রবাসীরা অন্য সময়ের চেয়ে বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। আগামীতে রেমিট্যান্সের এ ধারা বজায় নাও থাকতে পারে। আবার বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্যের প্রধান বাজার ইউরোপ ও আমেরিকা, যারা করোনা মোকাবিলায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এসব অঞ্চলে আগামীতে রপ্তানি কমতে পারে। এ অবস্থায় এশিয়ার দেশগুলোতে রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। এছাড়া শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পণ্য বহুমুখীকরণ করতে হবে। আর রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর জোর দিতে হবে। কোন ক্ষেত্রে বেশি লোকবল দরকার সে আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম ঠিক করতে হবে। বিদেশ ফেরতরা দেশে এসে চাকরি না খুঁজে যেন উদ্যোক্তা হতে পারেন, তার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, সিএমএসএমই খাতের ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে হবে। এ খাতের জন্য সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের ৫৪ দশমিক ১৩ শতাংশ ইতোমধ্যে বিতরণ হয়েছে। বর্ধিত সময়ের মধ্যে পুরো ঋণ বিতরণ শেষ হবে বলে তিনি আশা করেন। তিনি বলেন, 'আমরা সবাই শুধু সিএমএসএমই খাতে কম ঋণ বিতরণের কথা বলছি। তবে এ খাতের মোট ঋণের বড় অংশই মাঝারি খাতে বিতরণ হচ্ছে। যে কারণে সিএমএসএমই থেকে মাঝারি খাতকে বের করে বৃহৎ খাতের মধ্যে দেওয়ার সুপারিশ করছে ডিসিসিআই।' কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় একটি বিশেষ ব্যাংক অথবা এসএমই বন্ড প্রবর্তনের প্রস্তাব করেন তিনি। এসএমই ক্লাস্টারগুলোকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরের মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা দেওয়া যায় কিনা তাও বিবেচনার অনুরোধ জানান ডিসিসিআই সভাপতি।

মন্তব্য করুন