শেয়ার বাজার

লেনদেন ৫শ' কোটি টাকার নিচে

অব্যাহত দরপতনে বেচাকেনা সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল প্রতিবেদক

অব্যাহত দরপতনে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ কমছে। গতকাল সোমবার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে মাত্র পৌনে ৭ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। দর কমেছে ৬৪ শতাংশের। এর মধ্যে ২৯ শতাংশের দর ছিল অপরিবর্তিত, যেগুলোর বেশিরভাগ ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকায় আর দর কমার সুযোগ ছিল না। এসব শেয়ারের তেমন লেনদেনও হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ডিএসইর সার্বিক লেনদেন ৪৬৭ কোটি টাকায় নেমেছে, যা গত বছরের ৩০ জুলাইয়ের পর বা প্রায় সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বাজার সংশ্নিষ্টরা জানান, টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীরা এখন বেশ হতাশাগ্রস্ত। মাত্র এক মাস আগেও ডিএসইতে দিনে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানে লেনদেন পাঁচ ভাগের এক ভাগের নিচে নেমে আসায় তাদের অনেকে কিছুটা আতঙ্কিত। এর কারণ, হুট করে লেনদেন এতটা কমে যাওয়ার বিষয়টি কারও কাছে স্পষ্ট নয়।

একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, শেয়ারবাজারে আবার দরপতনের পেছনে কিছু চক্র কাজ করছে। এসব চক্রের সদস্যরা মাঝে অস্বাভাবিক হারে কিছু শেয়ারের দর বাড়িয়ে একটা অংশ বেশি দামে নিজেদের বিনিয়োগ তুলে নিয়েছে। তারা এখন বিনিয়োগে না থাকায় শেয়ারের চাহিদা কমছে। এতে বেশি বেড়ে যাওয়া শেয়ারগুলো দর হারানোর প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক লেনদেনে।

বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় গতকাল ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচকেও বড় পতন হয়েছে। সূচকটি ৯০ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৩৮৫ পয়েন্টে নেমেছে। যদিও লেনদেনের এক পর্যায়ে সূচকটি ১০০ পয়েন্ট হারিয়েছিল। শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউস লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ দিনের লেনদেন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত মূল্যায়নে বলেছে, বাজারের দামি শেয়ারগুলোর দরপতনের সূচকের পতন শুরু হয়, যা লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, ক্রমাগত দরপতনে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী বিভিন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ করে আটকে গেছেন এবং নতুন করে বিনিয়োগের সক্ষমতা হারিয়েছেন। শেয়ারবাজারের লেনদেনও গুটিকয় শেয়ারনির্ভর হয়ে পড়েছে। ব্যক্তিশ্রেণির বড় বিনিয়োগকারীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দরপতনে তাদের শত শত কোটি টাকা আটকে গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে তারা নতুন করে বিনিয়োগের বিষয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারাও নতুন করে বিনিয়োগে খুব বেশি উৎসাহিত করছেন না।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের মতো গতকালও লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি দুই টাকা ৯০ পয়সা দর হারিয়ে ৮৮ টাকা ২০ পয়সায় নেমেছে। তবে শুধু ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ১০৬ কোটি টাকার শেয়ার, যা এ বাজারের মোট লেনদেনের পৌনে ২৩ শতাংশ। এটিসহ লেনদেনের শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির প্রায় ২২৩ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা মোটের প্রায় ৪৮ শতাংশ। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৪৩ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মোট ৪৬৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, ৩১২ কোম্পানির কেনাবেচা হওয়া শেয়ারের বাজার মূল্য ছিল এক কোটি টাকারও কম। ২৫টির কোনো শেয়ারই কেনাবেচা হয়নি। এক লাখ টাকারও কম মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে ৮৬টির। এ অবস্থায় আল-হাজ্ব টেক্সটাইল কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে। ৫ শতাংশের ওপর দর বেড়েছে ইনটেক, ওয়ালটন ও ইউনিলিভার কেয়ারের। ৬ শতাংশের বেশি দর হারিয়ে দরপতন তালিকায় ছিল রবি ও মীর আকতার লিমিটেড।

এদিকে গতকাল বিএসইসি কার্যালয়ে দুবাই রোডশো পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, রোডশোতে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বন্ডের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামো প্রকল্পে আগ্রহ দেখেয়িছেন।