৫ দিনে ২২৭ পয়েন্ট হারাল সূচক

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল প্রতিবেদক

দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দরপতন শুরু হয়। দিন যত গড়াচ্ছে ততই এর মাত্রা বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৪৬ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। ফ্লোর প্রাইসে দর নেমে যাওয়া কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে ১০২টিতে উন্নীত হয়েছে।

মঙ্গলবার বাজারের ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৬৭ পয়েন্ট হারিয়েছে। সূচক নেমেছে ৫৩১৭ পয়েন্টে। পতনের হার সোয়া ১ শতাংশ। সর্বশেষ পাঁচ কার্য দিবসে সূচকটির ২২৭ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ১০ শতাংশ পতন হয়েছে। অধিকাংশ শেয়ারের দর কমলেও সূচকের এ পতনে বড় ভূমিকা রেখেছে বৃহৎ মূলধনি কোম্পানির দরপতন।

ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজের গ্রাহক (শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারী) শেখ রহমত সমকালকে বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কিছু ক্ষেত্রে ভালো উদ্যোগ নিলেও বাজারের কারসাজি বন্ধ করতে পারেনি। এর আগে অস্বাভাবিক হারে দরবৃদ্ধির সময় সংস্থাটির পক্ষ থেকে উৎসাহমূলক কথা বলা হয়েছে। এসব কথায় কারসাজির হোতারা উৎসাহিত হয়েছে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রলুব্ধ হয়েছে। বিএসইসি বাজারে সুশাসন ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও কারসাজি প্রতিরোধ ছাড়া কীভাবে বাজারে সুশাসন ফিরবে তার উত্তর নেই।

একাধিক শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যক্তি শ্রেণির বড় বিনিয়োগকারী অনেকে এখন বিনিয়োগ কার্যক্রম থেকে দূরে রয়েছেন। তাদের কিছু অংশ আগেই নিজেদের পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থ সংরক্ষণ করেছেন। একই চিত্র প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে।

শেয়ারবাজার-সংশ্নিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা মনে করেন, বড় বিনিয়োগকারীদের একটা অংশ অপেক্ষাকৃত কম দামে শেয়ার কিনতে এমন পরিবেশ তৈরি করতে চান, যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে শেয়ার বিক্রি করতে থাকেন এবং শেয়ারের দর কমে যায়। তবে কর্মকর্তারা এটা নিশ্চিত করেননি, টানা কয়েক দিনের দরপতনে এ ধরনের বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনা শুরু করেছেন কিনা। স্পষ্ট কিছু না বললেও তারা জানান, আতঙ্কিত হয়ে কেউ যেখানে শেয়ার বিক্রি করছেন, একই সময়ে কেউ না কেউ ওই শেয়ার কিনছেন।

গতকালের ডিএসইর খাতওয়ারী লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক এবং তথ্য ও প্রযুক্তি ছাড়া বাকি সব খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মা, বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, গ্রামীণফোন, লাফার্জ-হোলসিমের মতো বড় কোম্পানির শেয়ারের ক্রমাগত দরপতন বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ২০০ শতাংশ স্টকসহ ৫০০ শতাংশ চূড়ান্ত লভ্যাংশ ঘোষণার পরও গত সাত কার্য দিবসে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ারদর এক হাজার ৭৯৯ থেকে গতকাল এক হাজার ৫১২ টাকায় নেমেছে। মাত্র পাঁচ কার্য দিবসে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারদর ৯৮ থেকে ৮১ টাকায় নেমেছে। একইভাবে বেক্সিমকো ফার্মার দর একই সময়ে ২১৬ থেকে ১৭২ টাকায় নেমেছে। গত ১৪ জানুয়ারির পর নতুন তালিকাভুক্ত মোবাইল অপারেটর রবির শেয়ারদর ৭৭ থেকে কমতে কমতে ৩৮ টাকায় নেমেছে।

গতকাল ডিএসইতে ৬৬ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৫৬টির দর কমেছে। কেনাবেচা হয়েছে ৫৯১ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ৪৫ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৯৯টির দর কমেছে।