ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ ঘোষণার ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপের খবরে গতকাল বৃহস্পতিবার এ খাতের প্রায় সব শেয়ারের দরপতন হয়েছে। ২৩ কোম্পানির মধ্যে চারটির দর ছিল অপরিবর্তিত এবং দুটির লেনদেন হয়নি। এ খাতে গড় শেয়ারদর কমেছে ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ হারে। যদিও গতকাল অন্য সব খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়ায় সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

করোনা মহামারিতে গ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধে ছাড় প্রদানের পর আর্থিক খাতের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ব্যয়সাশ্রয়ী পরিচালন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাংকের পর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার এ বিষয়ক সার্কুলারে বলা হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) না রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে ঘাটতি সমন্বয়ে যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান রেফারেল সুবিধা নিয়েছে, সেগুলো প্রভিশন না রাখা পর্যন্ত কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা যাবে।

এছাড়া যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি, সেগুলো অনুমোদন ছাড়া কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। অন্যদিকে যেসব কোম্পানির মূলধনে ঘাটতি রয়েছে অর্থাৎ ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও বা মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ১০ শতাংশের কম এবং খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি সেগুলো কোনো ধরনের লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে লভ্যাংশ সংক্রান্ত এ সার্কুলার জারির আগে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের আইডিএলসি ফাইন্যান্স, বিডি ফাইন্যান্স ও আইপিডিসি ফাইন্যান্স লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বিডি ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের ৬ শতাংশ নগদসহ মোট ১২ শতাংশ, আইডিএলসির পর্ষদ ৩৫ শতাংশ নগদ এবং আইপিডিসির পর্ষদ ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে। লভ্যাংশ ঘোষণার এক সপ্তাহ পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমন বিধিনিষেধ আরোপ করল।

এ নির্দেশনা মেনে আইডিএলসি ঘোষণা অনুযায়ী লভ্যাংশ দিতে পারবে না। এর ফলে গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি দর তিন টাকা ২০ পয়সা বা পৌনে ৫ শতাংশ কমে ৬৪ টাকা ৪০ পয়সায় নেমেছে। তবে লভ্যাংশ হারে পরিবর্তন করার প্রয়োজন না থাকলেও বিডি ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি দর সোয়া ৩ শতাংশ এবং আইপিডিসির শেয়ারপ্রতি দর প্রায় ৪ শতাংশ হারে কমেছে। জানতে চাইলে আইডিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আরিফ খান সমকালকে বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে গত বছর ঋণ পরিশোধে অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় কোনো প্রতিষ্ঠান লভ্যাংশ দিয়ে যাতে নিজেই সংকটে না পড়ে, সেজন্য আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে আইডিএলসি বা অন্য যেসব প্রতিষ্ঠান ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়, পর্যাপ্ত মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত ও প্রভিশনিং সংরক্ষণ করে, তাদের ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ না থাকলে ভালো হতো। এ অবস্থায় ঘোষিত লভ্যাংশ নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার বিষয়ে আরিফ খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমতি দিলে লভ্যাংশ পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, ১৫ শতাংশের বেশি নগদ লভ্যাংশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। স্টক লভ্যাংশ দেওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে ভালো-মন্দ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এক কাতারে ফেলে লভ্যাংশ প্রদানের সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত হয়নি বলে তারা মনে করেন।

আইপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মমিনুল ইসলাম বলেন, নতুন বিধিনিষেধের কারণে তাদের ঘোষিত লভ্যাংশে পরিবর্তন আনার দরকার পড়বে না। কারণ তারা এ বিধানের তুলনায়ও বেশি মূলধন সংরক্ষণ করেছেন এবং মন্দ ঋণ ২ শতাংশেরও কম। তিনি বলেন, সক্ষমতা থাকলে ভালো প্রতিষ্ঠানকে ভালো লভ্যাংশ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

বাজার সংক্ষেপ :আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে দরপতন হলেও গতকাল ডিএসইতে ব্যাংক, বীমাসহ বড় সব খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসইএক্স সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪১৬ পয়েন্টে উঠেছে। লেনদেন হয়েছে ৭৪৬ কোটি টাকার শেয়ার।

মন্তব্য করুন