সিরামিক শিল্পের সব ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক্ক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ)। একই সঙ্গে তৈরি পণ্য আমদানিতে শুল্ক্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এমন উদ্যোগ দরকার বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে গতকাল সোমবার প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এসব প্রস্তাব দিয়েছে সিরামিক খাতের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গতকাল থেকে আলোচনা শুরু করে রাজস্ব আদায়ের প্রধান সংস্থাটি। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। বিসিএমইএর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়। এ সময় এনবিআরের সদস্যরাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সবার বক্তব্য শোনার পর এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে এ শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পণ্য রপ্তানিও হচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে, এ খাতে সরকারের সহায়তা আছে। এভাবে দেশি শিল্পকে সহায়তার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এনবিআরের উদ্দেশ্য। স্থানীয় শিল্পের বিকাশে তার সংস্থার সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে সহায়তার অপব্যবহার যাতে না হয়, সে জন্য ব্যবসায়ীদের উদ্যোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ আছে কলাটা নিতে চান, কিন্তু খোসাটা নিতে চান না। এ অবস্থার পরিবর্তন হতে হবে।

বিসিএমইএ নেতারা টাইলসের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ও স্যানিটারিওয়্যারের উৎপাদন পর্যায়ে থাকা ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। এ খাতের জন্য কর অবকাশ সুবিধা, আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, দেশে এখন প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ৬৮ সিরামিক শিল্পকারখানা রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে দেশের চাহিদার ৮৪ ভাগ মেটানো হচ্ছে। যদিও উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার চেয়ে বেশি। কিছু রপ্তানিও হচ্ছে এ খাত থেকে। ফলে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করছে সিরামিক খাত। তিনি বলেন, এ খাত শ্রমঘন ও সম্ভাবনাময়। এর প্রায় ৯০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানিনির্ভর। কাঁচামাল আমদানির শুল্ক্কও অনেক বেশি। অন্যদিকে, এ খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ গ্যাসের দামও বাড়িয়েছে সরকার। ফলে অভ্যন্তরীণ ও রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হচ্ছে। দেশি শিল্পের সুরক্ষায় তাই কাঁচামালের আমদানি শুল্ক্ক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা জরুরি।

বিসিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, সিরামিক পণ্যের পাইকারি ও খুচরা বিক্রি পর্যায়ে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) বসানো দরকার। কারণ, উৎপাদকরা যে ডিনার সেট দুই হাজার টাকায় বিক্রি করছে, সেটি পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে গিয়ে তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যে ডিনার সেট উৎপাদনকরা পাঁচ হাজার টাকা দাম নিচ্ছে, সেটি খুচরা পর্যায়ে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। ফলে উৎপাদকরা ভ্যাটের চাপে পড়ছেন। আরও বক্তব্য দেন সহসভাপতি মামুনুর রশিদ।

মন্তব্য করুন