ছাড় নিয়ে খেলাপি ঋণ কম দেখাতে পারলেও মূলধন ঘাটতি থেকে বেরোতে পারছে না কয়েকটি ব্যাংক। গত ডিসেম্বর শেষে ১০ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা। এ পরিমাণ অর্থ দিয়ে ৫৮টি নতুন ব্যাংকের মূলধন জোগান দেওয়া সম্ভব। ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৭টি সরকারি ও ৩টি বেসরকারি খাতের। লভ্যাংশ দেওয়ার বিষয়টি মূলধন সক্ষমতার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় এসব ব্যাংক এবার লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

ব্যাংকের মোট ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ অথবা ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে যা বেশি, কমপক্ষে সেই পরিমাণ মূলধন রাখতে হয়। ঘাটতি থাকা অবস্থায় লভ্যাংশ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে অনেক ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণে বাড়তি সময় নিয়ে লভ্যাংশ দিয়ে আসছিল। করোনার প্রভাব শুরুর পর ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো লভ্যাংশ বিতরণে সীমা আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২০ সালের জন্যও ব্যাংক ইচ্ছেমতো লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী সমকালকে বলেন, লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। কেননা মূলধন খারাপ থাকলেও লভ্যাংশ দিলে তাতে ব্যাংক দুর্বল হয়। ফলে এবার মূলধন সক্ষমতার সঙ্গে লভ্যাংশ দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আবার মূলধন বেশি থাকলেই লভ্যাংশ দেওয়া যাবে, তা নয়। মুনাফা করে এরপর দিতে হবে। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিচক্ষণ নীতিমালা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ডিসেম্বর শেষে সরকারি ৭টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২৫ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা ঘাটতি জনতা ব্যাংকের। সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি তিন হাজার ৬৪ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংক ডিসেম্বর শেষে তিন হাজার ২ কোটি টাকার ঘাটতিতে পড়েছে। বেসিকের ঘাটতি এক হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে এক হাজার ৪৫৮ কোটি ও রূপালী ব্যাংকে ঘাটতি রয়েছে ৬৭২ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি এক হাজার ৬২২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে এক হাজার ৩৫ কোটি টাকা ও পদ্মা ব্যাংকে ৩১০ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রভিশন সংরক্ষণে বাড়তি সময় না নেওয়া ব্যাংকের মূলধন ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১৫ শতাংশের বেশি হলে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদসহ ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে। গত ডিসেম্বর শেষে এ তালিকায় রয়েছে- সরকারি মালিকানার প্রবাসী কল্যাণ, বিডিবিএলসহ ২০টি ব্যাংক। এর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে- ডাচ-বাংলা, ব্যাংক এশিয়া, ঢাকা, প্রাইম, ট্রাস্ট, সিটি, যমুনা, আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী, ইস্টার্ন, সাউথইস্ট, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ও পূবালী ব্যাংক। আর নতুন প্রজন্মের মধুমতি, মিডল্যান্ড, মেঘনা, এনআরবি, সীমান্ত ও কমিউনিটি ব্যাংকও রয়েছে এ তালিকায়। সাড়ে ১৩ থেকে ১৫ শতাংশের নিচে মূলধন থাকা ব্যাংক সাড়ে ১২ শতাংশ নগদসহ ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে। এ তালিকায় রয়েছে- ইউসিবিএল, ব্র্যাক, উত্তরা, শাহ্‌জালাল ইসলামী, প্রিমিয়ার ও এসআইবিএল। মূলধন ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশের নিচে হলে ওই ব্যাংক সাড়ে ৭ শতাংশ নগদসহ ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে। এ তালিকায় রয়েছে- মার্কেন্টাইল, ন্যাশনাল, এনসিসি, ওয়ান, ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম, স্ট্যান্ডার্ড, এসবিএসসি ও এনআরবিসি ব্যাংক। আর ১০ দশমিক ৭২৫ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৮৭৫ শতাংশের নিচে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, আইএফআইসি, ইউনিয়ন, এবি ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।

মন্তব্য করুন