করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া এবং লকডাউনের প্রভাবে পোলট্রি খাত আবারও সংকটে পড়েছে। গত বছর করোনার এই সময়ে সংক্রমণ বাড়ার সময়ে খামারি এবং এক দিনের বাচ্চা উৎপাদনকারী হ্যাচারি মালিকরা বড় লোকসানে পড়েন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ একই

পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে তাদের। গত কয়েক দিনে এক দিনের মুরগির বাচ্চার দাম প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। এর প্রভাবে বাজারে মুরগির

দাম বেশ কমেছে। ডিমের দামও কমেছে। এতে ক্রেতার স্বস্তি মিললেও খামারিদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।\হমুরগির বাচ্চা উৎপাদকদের সংগঠন ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) সভাপতি মো. রাকিবুর রহমান টুটুল সমকালকে বলেন, গত বছর করোনার আগে থেকেই খারাপ অবস্থায় ছিল পোলট্রি খাত। করোনায় আরও বিপর্যয় নেমে আসে। এতে এ খাতে ১১ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়। এর পরে বাজার স্থিতিশীল হয়। সরকারের প্রণোদনায় আবার অনেকটা ঘুরে দাঁড়ায়। ভালো দামে গত এক মাস বেচাকেনা হয়েছে। এখন আবার করোনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে নতুন করে সংকটে পড়তে যাচ্ছে এ খাত।\হতিনি বলেন, ইতোমধ্যে মুরগির চাহিদা অনেক কমেছে। খামারিরা এখন উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। মুরগির দাম কমে যাওয়ায় এক দিন বয়সী বাচ্চার চাহিদা কমেছে। এতে মুরগির বাচ্চার দাম ৪০ শতাংশ কমেছে। এ খাত রক্ষায় দেশব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি লকডাউন না দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি। তার মতে, যেখানে সংক্রমণ বেশি সেই নির্দিষ্ট এলাকায় কার্যকর লকডাউন দেওয়া যেতে পারে।\হবাজার পরিস্থিতি :গত দুই দিনে কেজিতে ২০ টাকা কমে ব্রয়লার মুরগি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় এসেছে। সোনালি মুরগি কেজিতে ১০০ টাকা কমেছে। এখন ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, লকডাউনের খবরে গত শনি ও রোববার বেশি বিক্রি হয়েছে। লকডাউন শুরুর পরে চাহিদা কমেছে। এ কারণে দাম কমছে।\হগত সপ্তাহে খামারে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা ও সোনালি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। গতকাল ব্রয়লার ১০৫ থেকে ১১০ টাকা এবং সোনালি ১৯৫ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গাজীপুরের কাপাসিয়ার খামারি জহিরুল ইসলাম জানান, এক কেজি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে খরচ হয় ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। করোনাকালীন ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে বাচ্চা তুলবেন না।\হদেশে প্রতি সপ্তাহে ১ কোটি ৩০ লাখ মুরগির বাচ্চা তৈরি হয়। একেকটি বাচ্চা উৎপাদনে গড়ে খরচ ১৫ থেকে ২০ টাকা। মুরগির বিক্রি কম হওয়ায় নতুন করে বাচ্চা তুলতে তেমন আগ্রহী নেই খামারিদের। গতকাল প্রতিটি এক দিনের ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা ২৮ থেকে ৩০ টাকায় নেমেছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা ছিল। সোনালি মুরগির বাচ্চা ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় দাম উঠেছিল। এখন সোনালি মুরগির বাচ্চা ৮ থেকে ১০ টাকায় নেমেছে।

মন্তব্য করুন