তালিকাভুক্ত ৬২ কোম্পানির শেয়ার এবং চারটি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বনিম্ন বাজার দর বা ফ্লোর প্রাইস তুলে নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। গতকাল বুধবার কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা আজ বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। এর ফলে এসব শেয়ার ও ফান্ড প্রচলিত সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত দরের সীমার মধ্যে কেনাবেচা হবে।

কমিশন প্রাথমিকভাবে ৬৬ শেয়ার ও ফান্ডের ফ্লোর প্রাইস তুলে নিলেও বাকি ৩০৯ শেয়ার ও ফান্ডের ফ্লোর প্রাইস পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। গতকাল তালিকাভুক্ত ৩৭৩ কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৯৭টি ফ্লোর প্রাইসে আটকে ছিল। তবে যে ৬৬ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার আটটির দর গতকাল ফ্লোর প্রাইস থেকে সামান্য ওপরে ছিল।

যেসব শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে বস্ত্র খাতের কোম্পানি সর্বাধিক ২৪টি। কোম্পানিগুলো হলো- আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, আর্গন ডেনিম, দুলামিয়া কটন, এসক্যোয়ার নিট, ইভিন্স টেক্সটাইল, হামিদ ফেব্রিক্স, মেট্রো স্পিনিং, এমএল ডাইং, নূরানী ডাইং, প্যাসিফিক ডেনিম, প্রাইমটেক্স, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, রিজেন্টটেক্স, রিং সাইন, আরএন স্পিনিং, সাফকো স্পিনিং, সায়হাম কটন, সায়হাম টেক্সটাইল, শাশা ডেনিম, শেফার্ড, সিমটেক্স, ভিএফএস থ্রেড ও জাহীন স্পিনিং। প্রকৌশল খাতের ১১ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো- বিবিএস, বেঙ্গল উইন্ডসর, কপারটেক, নাহী অ্যালুমিনাম, নাভানা সিএনজি, ওয়াইম্যাক্স, অলিম্পিক অ্যাক্সেসরিজ, আরএসআরএম, সুহৃদ, ওয়েস্টিন মেরিন ও ইয়াকিন পলিমার।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের আট কোম্পানি হলো- এডভেন্ট ফার্মা, এএফসি এগ্রো, সেন্ট্রাল ফার্মা, দেশবন্ধু পলিমার, ফার কেমিক্যাল, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল, ইন্দো-বাংলা ফার্মা ও সিলভা ফার্মা। সেবা ও নির্মাণ খাতের বিডি সার্ভিসেস, ইউনিক হোটেল, খাদ্য খাতের বিচ হ্যাচারি, গোল্ডেন হারভেস্ট; বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ডেসকো ও খুলনা পাওয়ার; বীমা খাতের ফারইস্ট লাইফ ও স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স; ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের আইপিডিসি, ফনিক্স ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং, উত্তরা ফাইন্যান্স, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ও রূপালী ব্যাংক; কাগজ ও প্রিন্টিং খাতের খুলনা প্রিন্টিং এবং বিবিধ খাতের সিনোবাংলা ও উসমানিয়া গ্লাসের ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়েছে। চার মিউচুয়াল ফান্ড হলো- ডিবিএইচ প্রথম, আইএফআইএল ইসলামিক, ফনিক্স ফাইন্যান্স প্রথম এবং এসইএমএল এফবিএসএসএল।

জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম জানান, শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়াতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। তা ছাড়া ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া শেয়ারগুলোর দর কমলেও যাতে সূচকে বড় বেশি নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেদিক বিবেচনায় গত ৫ এপ্রিলের দিনের লেনদেন শেষে ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকা ১১০ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে যেগুলোর বাজারদর ৫০ টাকা বা তার কম ছিল, সেগুলোরই তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ৬৬ শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর বাজার কী ধরনের আচরণ করে, তা পর্যবেক্ষণ করে বাকিগুলোর বিষয়ে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।\হকরোনাভাইরাস সংক্রমণ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে গত বছরের মার্চে শেয়ারবাজারে দরপতন শুরু হলে সরকারের পরামর্শে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফ্লোর প্রাইস আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়, যা ওই বছরের ১৯ মার্চ থেকে কার্যকর হয়। এভাবে শেয়ারের সর্বনিম্ন বাজারদর বেঁধে দেওয়ার ঘটনা ছিল বিশ্বের শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন। গত বছর ফ্লোর প্রাইস আরোপের শুরুতে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু দিনের পর দিন ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকা শেয়ারের লেনদেন না হওয়ায় অনেকেই ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

বাজার সংক্ষেপ :এদিকে বড় দরপতনের পর টানা তৃতীয় দিনে গতকালও ঊর্ধ্বমুখী ছিল শেয়ারদর। ডিএসইতে ১৯৯ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৪৩টির দর কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল ১০২টির দর। বেশিরভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসইএক্স সূচক প্রায় ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫৩৩৭ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। দিনব্যাপী কেনাবেচা হয়েছে ৫৮২ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার। সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়েছে বীমা খাতের শেয়ার। এছাড়া এ খাতের সার্বিক শেয়ারদরও ২ শতাংশের ওপর বেড়েছে।

মন্তব্য করুন