রেমিট্যান্সের প্রণোদনা বাবদ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেওয়ার জন্য তিন হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু রেমিট্যান্সের তেজি প্রবাহের কারণে এ অর্থে সংকুলান হচ্ছে না। ফলে সংশোধিত বাজেটে প্রণোদনার পরিমাণ ৯৬০ কোটি টাকা বাড়িয়ে চার হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেমিট্যান্সের প্রণোদনা বাবদ প্রতি মাসে গড়ে ৩৩০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। ফলে বাজেটের বরাদ্দ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই শেষ হয়ে গেছে। এ জন্য বাকি তিন মাসের জন্য আরও এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২ হাজার ৬৭ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল এক হাজার ৪৮৭ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে রেমিট্যান্স বেশি এসেছে ৫৮০ কোটি ডলার বা ৩৯ শতাংশ।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত হন, সে লক্ষ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। অর্থাৎ বিদেশ থেকে কেউ ব্যাংকিং চ্যানেলে ১০০ টাকা পাঠালে সরকার তাকে ২ টাকা প্রণোদনা দেয়। এর পর থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ অনেক বেড়েছে। করোনাভাইরাস পুরো বিশ্বের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিলেও বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ রয়েছে ইতিবাচক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এতে সরকারের প্রণোদনা বাবদ ব্যয় বাড়ছে।

সরকারের প্রণোদনার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান রেমিট্যান্স সংগ্রহ ও বিতরণে অতিরিক্ত ১ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। এ প্রণোদনা ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে উৎসাহিত করছে।

মন্তব্য করুন