তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে থাকা অবণ্টিত মুনাফা নিয়ে 'শেয়ারবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল' গঠনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। তহবিল গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি বিধান চূড়ান্ত করেছে সংস্থাটি। সোমবার কমিশন সভায় এ বিধান চূড়ান্ত হওয়ার তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে বিএসইসি।

তারল্য সংকটে শেয়ারবাজারে দরপতন হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমন তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, শেয়ারবাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এ তহবিল থেকে বিনিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে বাজারকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা। এ কারণেই এর নাম দেওয়া হয়েছে 'শেয়ারবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল'। এ বিষয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি আইনের খসড়া প্রকাশ করে বিএসইসি।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পড়ে থাকা অবণ্টিত মুনাফার বাইরে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকে তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা গ্রাহকদের অর্থ এ তহবিলে আনার বিষয়ে আইনি প্রস্তাব করেছিল কমিশন। শিগগিরই এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে তহবিলের আকার কত হতে পারে, তা নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি বিএসইসি। সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তারা ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির অবণ্টিত মুনাফার তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ তথ্য নয়। কেননা, অনেক কোম্পানি এখনও তথ্য দেয়নি। প্রাথমিকভাবে এর পরিমাণ ২০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। তবে এ সংক্রান্ত একটি নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিভিন্ন কোম্পানির কাছে পড়ে থাকা নগদ ও বোনাস লভ্যাংশের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে অবণ্টিত নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ এক হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। যার ৭৫৫ কোটি টাকা ২২৭ কোম্পানি ব্যবহার করছে বা নিজস্ব ক্যাশ হিসাবে দেখাচ্ছে। এ ছাড়া ব্যাংকে জমা আছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। এক কোটি টাকা বা তার বেশি পরিমাণ অবণ্টিত মুনাফা রয়েছে ৭২ কোম্পানিতে, যার পরিমাণ ৫৫৩ কোটি টাকার বেশি। এর বাইরে ১৩৬ কোম্পানিতে পড়ে থাকা বোনাস শেয়ারের বাজারমূল্য (গত বছরের ২৫ নভেম্বর তারিখে) ছিল অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা।

জানা গেছে, নতুন এ ফান্ড ব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। এর পর ওই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কোম্পানির কাছে চিঠি দিয়ে অবণ্টিত মুনাফা তার ব্যাংক এবং বিও হিসাবে হস্তান্তর করতে বলবে। পরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংক বা মার্কেট মেকারকে ঋণ দেবে।

মন্তব্য করুন