পি কে হালদার কেলেঙ্কারিতে দুর্বল হয়ে যাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং রুগ্‌ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের কাছে তাদের শীর্ষ খেলাপি ঋণ গ্রহীতা এবং এসব ঋণ অনুমোদন প্রদানকারী পরিচালকদের তালিকা ও সংশ্নিষ্ট নথি চেয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আগামী সোমবারের মধ্যে এসব তথ্য দিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ইন্টারন্যাশনাল লিজিং কোম্পানির পর্ষদ প্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং এফএএস ফাইন্যান্সেরও পুনর্গঠিত পর্ষদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। সম্প্রতি এফএএস ফাইন্যান্সের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে, যার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন এনসিসি ও মেঘনা ব্যাংকের সাবেক এমডি নূরুল আমিন।

কমিশন সূত্র জানায়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং কোম্পানির আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলা এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। উচ্চ আদালত কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছেন, এ কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় কমিশন কী করছে। আদালতের প্রশ্নের জবাব তৈরির প্রয়োজনে এবং কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় কী করছে, এর বর্তমান প্রকৃত অবস্থা কী- এমন বিষয়ে জানতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং কোম্পানির পরিচালক ও সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠিয়েছিল বিএসইসি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএসইসি মনে করে, যেসব ঋণে অনিয়ম হয়েছে, তার অনুমোদনের সঙ্গে কোনো কোনো পরিচালকের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তাই কোম্পানির দুরবস্থার কারণে শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতির দায় তাদের নিতে হবে। শেয়ার ছাড়াও তাদের ব্যক্তিগত সম্পদও এ দায়ের সঙ্গে যুক্ত করার চিন্তাভাবনা রয়েছে বিএসইসির।

জানতে চাইলে বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, রুগ্‌ণ এবং পরিচালনাগত সংকটে রয়েছে- এমন সব কোম্পানিকে কমিশন ডেকে পাঠাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো- সংশ্নিষ্টদের কাছে কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় তারা কী করছেন, সে বিষয়েও অবহিত হওয়া। এর অংশ হিসেবে গতকাল দুই কোম্পানিকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তাছাড়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের বিষয়ে উচ্চ আদালত একটি প্রতিবেদন চেয়েছে। সে বিষয়েও তথ্য প্রয়োজন। তাই বেশ কিছু তথ্য দিতে বলা হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংকে।

শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, প্রতিষ্ঠানটি থেকে বড় যে ঋণ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো কবে দেওয়া হয়েছে, কতটুকু আদায় হয়েছে, ঋণ প্রদানের সব ধরনের নিয়ম-কানুন মানা হয়েছে কিনা, ঋণ অনুমোদনে পর্ষদ সদস্যদের তালিকা, শীর্ষ আমানতকারীদের তালিকা, কত সুদে আমানত গ্রহণ করা হয়েছে এবং শীর্ষ আমানতকারীদের তালিকাও চাওয়া হয়েছে। তাদের আমানত নির্ধারিত সময়ে ফেরত দেওয়া হয়েছে কিনা, না হলে তার কারণও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এসব তথ্য নিয়ে কমিশন কী করবে- এমন প্রশ্নে বিএসইসির এ কমিশনার জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রথম দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের। কিন্তু তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে বিএসইসিও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে। তাছাড়া উচ্চ আদালতও জানতে চেয়েছে, কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় কমিশন কী করছে। ফলে কমিশনের এ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ আছে। প্রতিষ্ঠানটির থেকে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে যদি দেখা যায়, এ ক্ষেত্রে কারও কোনো দায় আছে, তাহলে কমিশন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

মন্তব্য করুন