ব্যাংক থেকে সেবা পেতে বিভিন্ন ধরনের চার্জ, ফি ও কমিশন দিতে হয় গ্রাহকদের। টাকা জমা রাখা, ঋণ নেওয়া, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সেবায় এর প্রয়োজন পড়ে। একেক ধরনের সেবার বিপরীতে একেক ধরনের ফি। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ফি, চার্জ ও কমিশনের হার পুনর্নির্ধারণ করেছে। এর ফলে অনেক গ্রাহকের খরচ কমবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি মাস্টার সার্কুলার জারি করেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাসের সমকালকে বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় সেবার বিপরীতে ফি, চার্জ ও কমিশন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে অনেক সেবার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা ছিল না। ফলে কোনো কোনো ব্যাংক নিজেদের মতো করে চার্জ বা ফি নিতো। এ ধরনের বিষয়গুলো সার্কুলারে স্পষ্ট করা হয়েছে। যেখানে ফি নেওয়া যৌক্তিক, সেখানে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যেখানে ফি নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই, সে ক্ষেত্রে কোনো ফি নেওয়া যাবে না উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, আমানত হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি আগের মতোই রয়েছে। তবে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিসাবগুলোতে কোনো ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ফি নেওয়া যাবে না। ডরমেন্ট বা সুপ্ত থাকা বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়ী হিসাব ফের চালু করতে কোনো ধরনের চার্জ বা ফি আদায় করতে পারবে না ব্যাংক। এতদিন এ ধরনের হিসাব চালু করতে কোনো কোনো ব্যাংক চার্জ নিতো।

এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের মাসিক সঞ্চয় হিসাব, এফডিআর বা অন্য কোনো মেয়াদি আমানত মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙালে কোনো ফি নিতে পারবে না ব্যাংক। হিসাব বন্ধ করার ক্ষেত্রে সঞ্চয়ী হিসাবে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা, চলতি ও এনএসডি (স্পেশাল নোটিশ ডিপোজিট) হিসাবে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নেওয়া যাবে। চেক বই ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রকৃত খরচের ভিত্তিতে চার্জ নির্ধারণ করতে হবে। চেক বই হারানোর ক্ষেত্রে নতুন চেক বই ইস্যু বাবদ প্রকৃত খরচের বেশি কোনো চার্জ নেওয়া যাবে না। সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবে নূ্যনতম ব্যালান্স ফি, ইনসিডেন্টাল চার্জ, লেজার ফি, সার্ভিস চার্জ, কাউন্টার ট্রানজেকশন ফি বা অনুরূপ কোনো ফি নিতে পারবে না ব্যাংক। এতদিন কোনো কোনো ব্যাংক এ ধরনের ফি নিয়ে আসছিল।

একইভাবে ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতাদের জন্য বিভিন্ন সেবার বিপরীতে চার্জ রয়েছে। সে ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ঋণ আবেদন ফি নামে কোনো ফি আদায় করতে পারবে না ব্যাংকগুলো। ঋণ প্রক্রিয়াকরণ (প্রসেসিং) ফি বাবদ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মঞ্জুরিকৃত ঋণের দশমিক ৫০ শতাংশ ফি নেওয়া যাবে। তা কোনোভাবেই ১৫ হাজার টাকার বেশি হবে না। আর ৫০ লাখ টাকার বেশি ঋণে মঞ্জুরিকৃত ঋণের দশমিক ৩০ শতাংশ প্রসেসিং ফি নেওয়া যাবে। তবে তা ২০ হাজার টাকার বেশি হবে না। কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান (সিএমএসএমই) এবং কৃষি খাতের ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে কোনো ফি বা চার্জ বা কমিশন নেওয়া যাবে না। তবে এ দুই খাতের বাইরে অন্যান্য খাতে পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনে সর্বোচ্চ ঋণের দশমিক ২৫ শতাংশ বা ১০ হাজার টাকা নেওয়া যাবে।

এখন থেকে ডকুমেন্টেশন ফি, সিআইবি চার্জ, স্ট্যাম্প চার্জ এবং আইনি ও জামানত মূল্যায়ন ফি প্রকৃত ব্যয়ের বেশি নিতে পারবে না ব্যাংক। রপ্তানি ঋণসহ অন্য যে কোনো ঋণের ক্ষেত্রে সুদ বা মুনাফার বাইরে অন্য কোনো (ঋণ ব্যবস্থাপনা, মনিটরিং, সুপারভিশন, ঝুঁকি প্রিমিয়াম ইত্যাদি) নামে ফি বা চার্জ নেওয়া যাবে না। কোনো গ্রাহক মেয়াদের আগে ঋণ পরিশোধ করতে চাইলে বকেয়া ঋণের সর্বোচ্চ দশমিক ৫০ শতাংশ আর্লি সেটেলমেন্ট ফি নেওয়া যাবে। তবে সিএমএসএমই খাতে চলতি ঋণ বা ডিমান্ড লোন মেয়াদের আগে পরিশোধ করলে এ ধরনের ফি নেওয়া যাবে না।

এলসি খোলার কমিশন আগের মতোই

রয়েছে। তবে এলসি ট্রান্সমিশন, অ্যামেন্ডমেন্ট, কনফার্মেশন, ক্যান্সেলেশন, ফরেন করেসপনডেন্টের ক্ষেত্রে মেইলিং, কুরিয়ার, টেলেক্স ও সুইফট ইত্যাদির প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে চার্জ নির্ধারণ করতে হবে। এলসি অ্যাডভাইসিং, অ্যামেন্ডমেন্ট ও ট্রান্সফার বাবদ সর্বোচ্চ ৭৫০ টাকা চার্জ আরোপ করা যাবে। ফরেন করেসপনডেন্টের চার্জ (স্থানীয় অংশ), ডাটা ম্যাক্স, হ্যান্ডেলিং

চার্জ, কপি ডকুমেন্ট এনডোর্সমেন্ট চার্জ, এলসি বাতিল কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ অব্যবহূত এলসি চার্জ নিতে পারবে না ব্যাংক।

বিষয় : ব্যয় কমবে গ্রাহকের

মন্তব্য করুন