তালিকাভুক্ত সব শেয়ারের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার এবং সব শেয়ারের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকারের স্বাভাবিক নিয়ম কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশন এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে, যা আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।

গত বছরের ১৯ মার্চ সব শেয়ারে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে যে আদেশ জারি করা হয়েছিল, তা গতকাল বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে এর আগে যে ৯৬ শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হয়েছিল, তাদের দরপতন রুখতে নিচের সার্কিট ব্রেকার সর্বোচ্চ ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এ বিষয়ে গত ১০ এপ্রিল এবং ৩ জুন জারি করা আদেশ দুটিও প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিএসইসি।

নতুন আদেশ জারির ফলে আগামী রোববার থেকে লেনদেনে স্বাভাবিক নিয়মে নির্দিষ্ট দিনে কোনো শেয়ারের দর যতটুকু বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ থাকবে, ততটুকু কমারও থাকবে সুযোগ। গতকাল পর্যন্ত লেনদেনে তালিকাভুক্ত ৩৭৯ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৭৯টিতে ফ্লোর প্রাইস কার্যকর ছিল।\হফ্লোর প্রাইসে নেই কোনো শেয়ার- এমন শিরোনামে গত বুধবার সমকালে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দিনই ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল বিএসইসি। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফ্লোর প্রাইস কার্যকর থাকা ২৭৯ শেয়ারের মধ্যে ২৫৭টিইর বাজারদর ফ্লোর প্রাইসের তুলনায় ১০ থেকে ৯০০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দরে কেনাবেচা হচ্ছে।

গত বছর ব্যাপক দরপতন ঠেকাতে তৎকালীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সব শেয়ারে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে। এতে দরপতন বন্ধ হলেও লেনদেন অস্বাভাবিক হারে কমে যায়। গত বছরের ২৩ জুন শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ এক যুগেরও বেশি সময়ের সর্বনিম্ন ৩৮ কোটি টাকায় নেমেছিল।

নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়ার পর গত ১০ মাসে শেয়ারবাজারে নতুন করে গতি ফিরেছে। এতে শেয়ারদর বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেন। চলতি মাসের ১৩ কার্যদিবসে গড়ে দুই হাজার ১৮১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে।\হগত বছরের মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান কমিশন বলেছিল, তারা বিনিয়োগকারীদের বাজারে ফেরাতে প্রথমে কাজ করবে। এ কাজ করতে পারলে ফ্লোর প্রাইস কখন তুলে দেওয়া হবে, তা বিনিয়োগকারীরা বুঝতেও পারবেন না।

সম্প্রতি বিএসইসির চেয়ারম্যান বিভিন্ন সভায় বলেছেন, ফ্লোর প্রাইস আরোপ করার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে বিএসইসি। বিশ্বের কোথাও এভাবে শেয়ারদরে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয় না। এটি চালু রাখলে বিশ্বের সকল শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক সংস্থা আইওএসসিওর এ ক্যাটাগরির সদস্যপদ হারাতে পারে বিএসইসি। তিনি জানিয়েছিলেন, বিশেষ প্রয়োজনে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয়েছিল। সুবিধামতো সময়ে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হবে বলেও আভাস দিয়েছিলেন তিনি।

বাজার সংক্ষেপ :বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধি দিয়ে লেনদেন শুরুর হলেও শেষে বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে গতকাল। ডিএসইতে ১০৭ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৩৭টির দর কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল ২৮টির দর। বেশিরভাগ শেয়ার দর হারালেও ডিএসইএক্স সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ৬০৫২ পয়েন্টে উঠেছে।

বিষয় : †kqvi evRvi

মন্তব্য করুন