জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বহির্ভূত কর এবং করবহির্ভূত রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সে লক্ষ্যে এ দুই খাতের বিভিন্ন কর হার ও সেবা মাশুল বাড়ানোরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন শুল্ক্ক হার ও সেবা মাশুলের একটি অনলাইন তথ্যভান্ডার তৈরি করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যেখানে এনবিআরবহির্ভূত কর হার এবং করবহির্ভূত রাজস্ব খাতের বিভিন্ন সেবার মাশুল উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি কোন সংস্থা কী পরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহ করছে, কারা কী সেবা নিচ্ছে তা এক জায়গা থেকে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় এই অনলাইন তথ্যভান্ডার (ডাটাবেজ সফটওয়্যার) তৈরির জন্য সরকারের সব সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে কোন সংস্থা কী কী রাজস্ব কত হারে আদায় করে, কতগুলো ক্ষেত্রে আদায় করে, এসব কর হার পুনর্নির্ধারণ করা হলে তা উল্লেখ করে অর্থ বিভাগে তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। যেসব করহার ও সেবা মাশুল পুনর্নির্ধারণ করা হবে সেগুলো কেন করা হচ্ছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ পুনর্নির্ধারিত কর ও মাশুলের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। অর্থ বিভাগ অনুমোদন করলেই নতুন হার কার্যকর করা যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, করোনার কারণে ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দা যাচ্ছে। পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তা ধারণা করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কর হার বাড়ানোর পরিবর্তে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর ছাড় দিয়েছে। এ রকম অবস্থায় সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ ঠিক রাখতে করবহির্ভূত রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোয় সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি এনবিআরবহির্ভূত কর থেকেও রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, ভূমি রাজস্বে পরিবর্তনের কথা ভাবছে সরকার। বাড়তে পারে টোল হার। যানবাহনের কয়েকটি ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের খরচ বাড়তে পারে।

নতুন বাজেটে এনবিআরবহির্ভূত কর খাত থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এক হাজার কোটি টাকা বেশি। আর করবহির্ভূত রাজস্ব থেকে ৪৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে ৩৫ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

এনবিআরবহির্ভূত কর আদায় হয় মাদকদ্রব্য ও মদ জাতীয় পানীয়ের ওপর শুল্ক্ক, যানবাহন, ভূমি, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প কর ও সারচার্জ থেকে। নতুন বাজেটে মাদক শুল্ক্ক থেকে ১৩৮ কোটি, যানবাহন কর থেকে ৮০০ কোটি, ভূমি রাজস্ব থেকে এক হাজার ৮৮২ কোটি, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বিক্রি থেকে ১২ হাজার ৬১৭ কোটি এবং স্বাস্থ্য উন্নয়ন, পরিবেশ উন্নয়ন ও আইটি সারচার্জ থেকে ৫৬৩ কোটি টাকা পাওয়ার আশা করছে সরকার।

এ ছাড়া বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ ও মুনাফা, সুদ, প্রশাসনিক ফি, জরিমানা, দণ্ড ও বাজেয়াপ্তকরণ, সেবা বাবদ ফি, ভাড়া ও ইজারা, টোল, অবাণিজ্যিক বিক্রি ইত্যাদি থেকে যে রাজস্ব পাওয়া যায় সেটি কর ব্যতীত রাজস্ব হিসেবে সরকারের কোষাগারে জমা হয়। নতুন বাজেটে সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ ও মুনাফা বাবদ ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা পাওয়ার আশা করছে। ১৫ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা আসবে সুদ থেকে। ৭ হাজার ২০৮ কোটি টাকা আসবে প্রশাসনিক ফি থেকে।

বিষয় : এনবিআর

মন্তব্য করুন