সেবা খাতের বাণিজ্য দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ডিজিটাইজেশন চলছে তা করোনা চলাকালে আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। পরিষেবার ক্ষেত্রে ব্যবসার সুযোগ বাড়ছে। এটি জাতীয় অর্থনীতি ও ব্যক্তি খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে সেবা খাতের বাণিজ্যে ডিজিটাল পদ্ধতির সুবিধা পেতে বাংলাদেশকে প্রস্তুত থাকতে হবে। বাড়াতে হবে সক্ষমতা। নতুন এই বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কী কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে, তা খুঁজে বের করা জরুরি। এ ছাড়া এ খাতের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কিছু কার্যকরী পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।

গতকাল সোমবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ফ্রিডরিচ-এবার্ট-স্টিফটং (এফইএস) বাংলাদেশ আয়োজিত 'ডিজিটাল যুগে সেবা খাতের বাণিজ্য' বিষয়ক সংলাপে এসব কথা উঠে আসে।\হভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এই সংলাপে বক্তারা বলেন, সেবা খাতের বাণিজ্য ডিজিটাইজেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত নীতিগুলো যুগোপযোগী করা দরকার। ভবিষ্যতের কর্মশক্তি প্রস্তুত করতে সচেতনতা তৈরি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে অংশীজনের কাছে তথ্য পৌঁছানোও নিশ্চিত করতে হবে।

তারা আরও বলেন, এই খাতে আর্থিক সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করা দরকার। এ সম্পর্কিত প্রক্রিয়ায় ত্রুটি এড়াতে তদারকি করার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ ছাড়া আইসিটি সম্পর্কিত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নারীর অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে হবে।\হসংলাপের মূল বক্তব্য সিপিডির প্রাক্তন সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট কামরুজ্জামান বলেন, দেশের রপ্তানি বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতে ব্যাপকভাবে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন কৌশলগত উন্নয়ন ও সেবা বাণিজ্যের প্রচার। ডিজিটাল যুগে পরিষেবাগুলোতে ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা দূর করা অত্যাবশ্যক। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবা খাতে বাণিজ্যের পরিমাণ বহুগুণে বেড়েছে। অতিমারির সময়ে গ্রাহকরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পণ্য ও পরিষেবা নিতে উৎসাহিত হয়েছে। তবে ব্যবসার পরিবেশ পরিষেবাগুলোতে বাণিজ্য সম্প্রসারণকে বাধাগ্রস্ত করে থাকে। বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগের (এসএমই) ক্ষেত্রে।\হসিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ডিজিটালাইজেশন পরিষেবাগুলো বাণিজ্যকে আরও সহজ করে তুলেছে। এটি নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। চর্তুথ শিল্প বিপ্লবের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সংযোগ এবং আইসিটি অবকাঠামো স্থাপন করতে হবে। সেই সঙ্গে বাণিজ্য ক্ষেত্রে দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠে কর্মশক্তির দক্ষতা বাড়াতে হবে।

সংলাপে উপস্থিত ছিলেন এফইএস বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ফেলিক্স কোলবিৎজ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) অ্যানহ্যান্সড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক ড. রত্নাকর অধিকারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান আঙ্কটাডের সিনিয়র ইকোনমিক এফেয়ার্স অফিসার রাশমি বাংগা, বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মেজবাউল হক, ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিজ অব শ্রীলঙ্কার (আইপিএস) নির্বাহী পরিচালক ড. দুশনি উইরাকুন, সাউথ এশিয়া ওয়াচ অন ট্রেড, ইকোনমিকস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের (এসএডব্লিউটিইই) নির্বাহী পরিচালক ড. পুষ্পা শর্মা, ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজের (আরআইএস) সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রিয়দর্শী দাশ প্রমুখ।

বিষয় : ডিজিটাল

মন্তব্য করুন