বাড়ছে শেয়ারদর। এর সঙ্গে বাড়ছে মূল্য সূচক। অবশ্য ঈদের আগে শেষ কার্যদিবসে গতকাল সোমবার বৃহৎ মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির ওপর ভর করে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স রোববারের তুলনায় প্রায় ৪০ পয়েন্ট বেড়ে ৬৪০৫ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর পর এটিই ডিএসইএক্স সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান। তবে নতুন সূচক চালুর আগে ডিএসই সাধারণ সূচক ছিল ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক। ওই সূচকের\হঅবস্থান বিবেচনা করলে সূচকের গতকালের অবস্থান ২০১১ সালের ৩১ জুলাইয়ের পর বা গত প্রায় এক দশকের সর্বোচ্চ।

মোট শেয়ারের তুলনায় সচরাচর লেনদেনযোগ্য (ফ্রি-ফ্লোট) শেয়ার কম থাকার পরও গ্রামীণফোনের মতো বৃহৎ মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদরের উত্থান-পতনে শেয়ারবাজার সূচকে ব্যাপক উত্থান-পতন হচ্ছিল। সূচকের গণনা পদ্ধতি নিয়ে ধারণা না থাকায় এমন পতন নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে পড়ছিল। এ সংকট সমাধানে ২০১২ সালের জুনে ফ্রি ফ্লোট শেয়ারের ভিত্তিতে নতুন সূচক ডিএসইএক্সের গণনা শুরু হয়। ডিএসইএক্স সূচক টানা ছয় মাস পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল। ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি সূচকটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর প্রথম দিনে ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্টেরও কম পরিবর্তন হয়। দিন শেষে সূচকটির সর্বশেষ অবস্থান ছিল ৪০৫৫ দশমিক ৯০ পয়েন্টে।\হচালুর পর ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান ৩৪৩৮ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমেছিল। ফের ৪০০০ পয়েন্টের মাইলফলক পার করেছিল ২০১৩ সালের ৮ জুন। ৫০০০ পয়েন্টের মাইলফলক অতিক্রম করে ২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। ৬০০০ পয়েন্টের মাইলফলক পার করেছিল ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট। কিন্তু তখন ৬৩৩৬ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠেছিল। ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ডিএসইএক্স সূচক ফের ৬৩০০\হপয়েন্ট পার করার পর নতুন করে দরপতন\হশুরু হয়েছিল। ওই দরপতনে ওই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি সূচকটি ফের ৬০০০ পয়েন্টের নিচে নামে। ক্রমাগত দরপতনে গত বছরের জুনে ৩৯৫৮ পয়েন্ট পর্যন্ত নামে।

ডিএসইএক্স রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর দিনে গতকাল অবশ্য ডিএসইতে দরবৃদ্ধি পাওয়ার শেয়ারের থেকে দর হারানো শেয়ার সংখ্যাই বেশি ছিল। এ বাজারে তালিকাভুক্ত ১৫৯ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৭৯টি দর হারিয়েছে। দর অপরিবর্তিত ছিল ৩৪টির।\হবেশিরভাগ শেয়ার দর হারালেও ডিএসইএক্স সূচক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যাংক, বীমা এবং ওষুধ খাত অবদান রেখেছে। গতকাল ৩১ ব্যাংক কোম্পানির মধ্যে ২৫টির বাজারদর বেড়েছে, কমেছে দুটির এবং অপরিবর্তিত ছিল চারটির দর। গড়ে এ খাতের সব শেয়ারের দর বেড়েছে সোয়া ১ শতাংশ। এতে ডিএসইএক্স সূচকে যোগ হয়েছে ১৬ পয়েন্ট।\হলেনদেন হওয়া ৪৮ বীমা কোম্পানির মধ্যে ৪৩টির দর বেড়েছে। দর কমেছে পাঁচটির। গড়ে এ খাতের শেয়ারদর বেড়েছে আড়াই শতাংশ। এ খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধি ডিএসইএক্স সূচকে গতকাল যোগ করেছে অন্তত ১১ পয়েন্ট। ওষুধ ও রসায়ন খাতও সূচকে ১০ পয়েন্ট যোগ করেছে। যদিও এ খাতের লেনদেন হওয়া ৩১ কোম্পানির মধ্যে\হ১৮টির দর কমেছে, বেড়েছে ১০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল দুটির দর। এর মধ্যে বীকন ফার্মার শেয়ারপ্রতি ১৫ টাকা ৪০ পয়সা দরবৃদ্ধি সূচকে ১০ পয়েন্ট যোগ করেছে।\হডিএসইতে গতকাল বীকন ফার্মাসহ মোট ৯ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে তিনটি শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির থাকে। শেয়ারগুলো হলো- বীকন ফার্মা, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার এবং বীমা খাতের গ্লোবাল, সেন্ট্রাল, ইসলামিক, নর্দান, রিলায়েন্স, রিপাবলিক এবং সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।\হখাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল ব্যাংক, বীমা, সিমেন্ট খাতের অধিকাংশ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হয়। সিংহভাগ মিউচুয়াল ফান্ড দর হারিয়েছে। প্রকৌশল খাতের বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে। অন্য সব খাতে ছিল মিশ্রধারা।

ডিএসইতে গতকাল এক হাজার ২৬৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। একক কোম্পানি হিসেবে সর্বাধিক ২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয় সাইফ পাওয়ারটেকের। একক খাত হিসেবে সর্বাধিক ১৬৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে বীমা খাতের, যা ছিল মোট লেনদেনের সোয়া ১৩ শতাংশ।

লেনদেন বন্ধ পাঁচ দিন :ঈদুল আজহার তিন দিনের ছুটিসহ আগামী শুক্র ও শনিবারের\হসাপ্তাহিক ছুটি মিলে টানা পাঁচ দিন শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ থাকবে। আগামী ২৫ জুলাই ফের লেনদেন শুরু হবে।

বিষয় : শেয়ার বাজার

মন্তব্য করুন