চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতি কমবেশি সম্প্রসারণমূলক ও সংকুলানমুখী। তবে এটি কিছুটা গতানুগতিক ও ধারাবাহিক। এ নীতিতে বেসরকারি খাতকে উজ্জীবিত করতে উদ্ভাবনী কোনো পদক্ষেপ নেই। বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রানীতির ওপর প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটি বলেছে, সামগ্রিক অর্থনীতিতে করোনার নেতিবাচক প্রভাব থেকে বের হয়ে আসার বিষয়ে এবারের মুদ্রানীতিতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা কিছুটা আশাবাদী হওয়ার মতো। তবে কভিডের কারণে আশানুরূপ বিনিয়োগ হচ্ছে না। তাই ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াতে পারে। সামগ্রিক অর্থনীতি এবং বেসরকারি খাত করোনার প্রভাব থেকে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত নাও হতে পারে।

ডিসিসিআই বলেছে, বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে যে ব্যয় ধরা হয়েছে, তার অর্থ জোগান দিতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে সরকার। সেটি হলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। গত অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ছিল ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়া, কভিডে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ধস বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কম হওয়ার অন্যতম কারণ। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রায় ৯০ শতাংশ সিএমএসএমই স্বল্প সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং নতুন বিনিয়োগেও তেমন আগ্রহী নয় তারা।

সংগঠনটি বলেছে, সিএমএসএমই খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে আর্থিক প্রণোদনাসহ অনেক ধরনের নীতিসহায়তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তেমন কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি মুদ্রানীতিতে।

মন্তব্য করুন