দেশে মেধাস্বত্ব রক্ষায় নীতি ও আইনি কাঠামো এখনও অপূর্ণাঙ্গ। উদ্ভাবন ও বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে এ বিষয়ে যথাযথ নীতি কাঠামো প্রয়োজন। গতকাল মঙ্গলবার মেধাস্বত্ব বিষয়ে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন।\হঅ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, দেশে মেধাস্বত্বের যথাযথ সুরক্ষায় নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। এ বিষয়ে আইনি কাঠামো আছে। আন্তর্জাতিক চুক্তিতেও বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। তবে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরকে উৎসাহিত করতে মেধাস্বত্ব রক্ষার বিষয়টিকে আরও এগিয়ে নেওয়া দরকার। সেইসঙ্গে এ বিষয়ে অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতাও বাড়ানো প্রয়োজন।

দেশে কার্যকর ও শক্তিশালী মেধাস্বত্ব কাঠামো তৈরির বিষয়ে সংশ্নিষ্ট সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান অ্যামচেম সভাপতি। তিনি বলেন, যথাযথ মেধাস্বত্ব সুরক্ষার মাধ্যমে আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ বাড়বে। বাড়বে কর্মসংস্থানও। এটি জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোসহ দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জোঅ্যান ওয়াগনার বলেন, উদ্ভাবন ও সৃষ্টিশীলতাকে এগিয়ে নিতে মেধাস্বত্ব রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বড় কিছু ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে অনেক সময় অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশে মেধাস্বত্বের নিয়ম লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।

অনুষ্ঠানে মেধাস্বত্ব রক্ষায় অ্যামচেমের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- 'উদ্ভাবনের দশক' ঘোষণা করা, জাতীয় ও খাতভিত্তিক উদ্ভাবনী কাউন্সিল গঠন করা, মেধাস্বত্ব সুরক্ষার জন্য একটি জাতীয় কাঠামো উন্নয়ন, সংশ্নিষ্ট সংস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা ইত্যাদি। এ ছাড়াও মেধাস্বত্ব বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, মেধাস্বত্ব-সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা, কপিরাইট উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন, মেধাস্বত্ব আপিলাত বোর্ড গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয় অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার মো. আবদুস সাত্তার, যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেড মার্ক অফিসের সাউথ এশিয়াবিষয়ক আইপি পলিসি অ্যাডভাইজর শিল্পী ঝা ও আইপি কাউন্সিলর জন কাবেকা, অ্যামচেমের সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মন্তব্য করুন