প্রস্তাবিত কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য আরও অনেক বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে দু'দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও কর্মসংস্থান বাড়বে। দূর হবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সংক্রান্ত সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা। বাংলাদেশ এতে বিশেষভাবে লাভবান হবে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের পর ভারতে শুল্ক্কমুক্ত রপ্তানির অনেক সুবিধা থাকবে না বাংলাদেশের। সে ক্ষেত্রে সিইপিএর মাধ্যমে এ সুবিধা অব্যাহত রাখা যেতে পারে।

গতকাল রোববার অংশীজন পরামর্শ সভায় এই মতামত দিয়েছেন সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা। পণ্য বাণিজ্যে প্রস্তাবিত সিইপিএর সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা বিষয়ে এ পরামর্শ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই)। সমীক্ষায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে রয়েছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ফরেন ট্রেড (আইআইএফটি)। সিইপিএ হচ্ছে দু'দেশের মধ্যে এক ধরনের অবাধ বাণিজ্য চুক্তি। বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এ ধরনের চুক্তি আছে। গতকালের সভায় পণ্য খাত বিষয়ক পর্যালোচনার ফল তুলে ধরা হয়। ভারতের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের সিপিএ রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সিপিএ নিয়ে অনেক দিন ধরে আলোচনা চলছে।

গতকালের সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএফটিআইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. জাফর উদ্দীন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ। সভা সঞ্চালনা করেন বিএফটিআইর পরিচালক মো. ওবায়দুল আজম।

সভায় তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান বাণিজ্যের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ আরও অনেক বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। প্রস্তাবিত সিইপিএ সে সুযোগকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে সহায়ক হবে।

সভার শুরুতে যৌথ সমীক্ষার লিড কনসালট্যান্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান সমীক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সমীক্ষার পণ্য বাণিজ্য বিষয়ক সেক্টর কনসালট্যান্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সভায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এএইচএম আহসান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান ও নূর মো. মাহবুবুল হক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনী, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর প্রমুখ। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা সভার আলোচনায় অংশ নেন।

মন্তব্য করুন