বড় দরপতন হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। আগের দুই দিনের ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২৮ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৬৪ শতাংশের

দর কমেছে। এতে এ বাজারের প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্সের পতন হয়েছে ৬৫ পয়েন্ট। এ নিয়ে গত তিন দিনে সূচকটি ১১৯ পয়েন্ট হারিয়েছে। দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইর লেনদেনেও একই

চিত্র দেখা গেছে।

অবশ্য সার্বিক দরপতনের বিপরীতে ব্যতিক্রম ছিল বীমা খাত। ডিএসইতে এ খাতের তালিকাভুক্ত ৫১ কোম্পানির মধ্যে ৫০টিরই দর বেড়েছে, যেখানে এ বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৭৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৬টির। দরবৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা ৩০ কোম্পানির মধ্যে বীমা খাতের শেয়ার ছিল ২৩টি। সার্বিকভাবে এ খাতের শেয়ারদর পৌনে ৩ শতাংশ বেড়েছে। এমনকি অন্য সব খাত সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও বীমা খাতের শেয়ারের দরবৃদ্ধি সূচকে প্রায় ১২ পয়েন্ট যোগ করে।

সার্বিক দরপতন বিষয়ে বাজার সংশ্নিষ্টরা জানান, গত তিন দিনে সূচকে পতন হলেও প্রায় দেড় মাস ধরে বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমছে। এ সময়ে বৃহৎ মূলধনি কিছু কোম্পানির দরবৃদ্ধির ওপর ভর করে বেড়েছে সূচক। এখন বৃহৎ মূলধনি শেয়ারের দর কমায় সূচকও নিম্নমুখী হয়েছে।

শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা জানান, ঘুরে-ফিরে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে ভর করে শেয়ারবাজার চলছে। নানামুখী গুজব ও গুঞ্জনে ভর করে কিছু শেয়ারের দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্যও প্রভাব রাখছে। যেমন মালিকানা পরিবর্তন আসছে এমন খবরে গত সাড়ে ছয় মাসে লাফার্জ-হোলসিমের শেয়ারদর ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১০৭ টাকা ছাড়িয়েছিল। প্রায় টানা বৃদ্ধির পর এখন অনেকে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। এ কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে দর কমছে। একই ঘটনা ঘটেছে সাইফ-পাওয়ারটেক, জিপিএইচ ইস্পাত, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলসহ অনেক কোম্পানির ক্ষেত্রে।

বীমা খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ বিষয়ে বাজার-সংশ্নিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ডিএসইর পক্ষ থেকে আয়োজিত এ বছরের বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বীমা খাত নিয়ে অনেক ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। এর প্রভাব থাকতে পারে। তাছাড়া অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির পর কয়েক মাস এ খাতের শেয়ারের দর কমছিল। নতুন করে কারসাজি চক্র এ খাতের দর বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও খবর রয়েছে।\হগতকাল ডিএসইতে প্রায় ১০ শতাংশ দর বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স এবং এনআরবিসি ব্যাংক। ৭ থেকে ৮ শতাংশ দর বেড়ে এর পরের অবস্থানে ছিল জনতা, রিলায়েন্স এবং গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স। ৫ শতাংশের ওপর দর বেড়েছে মোট ১০ কোম্পানির। বিপরীতে ৫ শতাংশের ওপর ১০টি শেয়ার দর হারিয়েছে। প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ দর হারিয়ে দরপতনের শীর্ষে ছিল ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং। প্রায় ৬ শতাংশ হারে দর হারিয়ে দরপতনে এর পরের অবস্থানে ছিল ইন্দোবাংলা ফার্মা এবং লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট।

একক কোম্পানি হিসেবে ১৮২ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ফরচুন শুজ। যদিও শেয়ারটি ৩ টাকা ৩০ পয়সা দর হারিয়ে সর্বশেষ ৯২ টাকা ৮০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে। মাত্র ছয় মাসে এর দর ১৬ টাকা থেকে ১০১ টাকায় উঠেছিল। ১০৩ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে এর পরের অবস্থানে ছিল লাফার্জ-হোলসিম। দিনব্যাপী ডিএসইতে প্রায় ১ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

মন্তব্য করুন