গত সোমবার থেকে ক্রমাগত শেয়ারদর কমছে। সর্বশেষ পাঁচ দিনে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৮১ পয়েন্ট হারিয়ে ৭১৮৬ পয়েন্টে নেমেছে। সূচক পতনের হার আড়াই শতাংশ। এর মধ্যে গতকাল রোববারই সূচকটি হারিয়েছে প্রায় ৫৭ পয়েন্ট। বেশিরভাগ ব্যাংকের পাশাপাশি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, বেক্সিমকো লিমিটেডের মতো বৃহৎ মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর না বাড়লে সূচকের পতন আরও বড় হতে পারত।

বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। ঘুরেফিরে গুটিকয় শেয়ারে আটকে আছে লেনদেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- লাফার্জ-হোলসিম, বিকন ফার্মা, ওরিয়ন ফার্মা, ফরচুন শুজ, জিপিএইচ ইস্পাত, সাইফ পাওয়ারটেক, বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, জেনেক্স ইনফোসিস, বিএটিবি। এগুলোর বাজারদর রাতারাতি কয়েকগুণ হয়েছে। এখন কেউ কেউ শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলতে শুরু করলে শেয়ারগুলোর বাজারদর কমছে। এতে বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের মতো গতকাল রোববারও শুরুতে বেশিরভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধি পায়। এতে ডিএসইএক্স সূচক সাড়ে ১১টায় গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় ৪০ পয়েন্ট বেড়ে ৭২৮৩ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল। এর পর থেকে দরপতন শুরু হলে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে সূচকটি দিনের সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় ১১৩ পয়েন্ট বা শুরুর তুলনায় ৭২ পয়েন্ট হারিয়ে ৭১৭০ পয়েন্টে নামে। যদিও শেষ ১০ মিনিটে কিছু শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ক্লোজিং হিসেবে আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৫৭ পয়েন্ট হারিয়ে থামে ৭১৮৬ পয়েন্টে।

সূচকের এমন বড় পতনের মধ্যেও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো সূচকে ১৫ পয়েন্ট ও বেক্সিমকো লিমিটেড ১০ পয়েন্ট যোগ করেছে। আর ব্যাংক খাতের ৩২ কোম্পানির মধ্যে ১৮টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে সাতটি দর হারালেও সাকল্যে এ খাত সূচকে যোগ করেছে প্রায় ১০ পয়েন্ট। অর্থাৎ এসব শেয়ারই সূচককে ৩৫ পয়েন্ট যোগ না করলে সূচকের আরও বড় পতন দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হতে পারত।

বাজারের চলতি ধারা বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, এ মুহূর্তে শেয়ারবাজারে এমন কোনো ইস্যু নেই যার কারণে বাজার নিম্নমুখী ধারায় যেতে পারে। তবে বাজার অল্প কিছু শেয়ারের মধ্যে আটকে আছে। যদিও এটাই এ বাজারের ধারা। গত কয়েক দিন ধরে সূচকের পতন হচ্ছে বাজার সূচকে প্রভাব ফেলে এমন কিছু বড় শেয়ারের দর সংশোধনের কারণে।

একাধিক শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহীরা জানান, সূচককেন্দ্রিক মার্জিন ঋণের হার এবং সরকারি ব্যাংকগুলোকে আইসিবিকে দেওয়া সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার সীমা অতিরিক্ত আমানত ফেরত নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে চাপ- এ দুই ইস্যুতে গত সেপ্টেম্বরে শেয়ারবাজারে অস্থিরতার শুরু হয়। পরে দ্রুত বেড়ে যাওয়া শেয়ারগুলোর দরপতন শুরু হলে অস্থিরতা বেড়েছে।

সার্বিক হিসাবে গতকাল ডিএসইতে ৩৭৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫টির বাজারদর বেড়েছে, কমেছে ২৮৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির দর। খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্যাংক ছাড়া অন্যসব খাতের সিংহভাগ শেয়ারের দর কমেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের লেনদেন হওয়া ২২ কোম্পানির মধ্যে ২০টির দর কমেছে। গড়ে এ খাতের শেয়ারদর কমেছে সোয়া ২ শতাংশ। একইভাবে বীমা খাতের ৫১ শেয়ারে মধ্যে ৪৭টির, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ২৩ কোম্পানির মধ্যে ২০টির দর কমেছে।

সর্বাধিক সাড়ে ৯ শতাংশ দর হারিয়ে দরপতনের শীর্ষে ছিল ওরিয়ন ফার্মা। আলোচিত শেয়ারগুলোর মধ্যে ওরিয়ন ইনফিউশনস, জিপিএইচ ইস্পাত, ফু-ওয়াং সিরামিক, জিবিবি পাওয়ার, লাফার্জ-হোলসিম, বিকন ফার্মা, পাওয়ার গ্রিড, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলসহ ২৭টি শেয়ারের দর ৫ থেকে ৯ শতাংশ কমেছে। এমন দরপতনের মধ্যেও সাউথবাংলা ব্যাংক, মুন্নু ফেব্রিক্স, ফরচুন শুজ, এনআরবিসি ব্যাংক এবং সোনালি পেপারের শেয়ারদর ৭ থেকে ১০ শতাংশ বেড়েছে।

মন্তব্য করুন