অন্যান্য পণ্যের মতো তৈরি পোশাকের ব্যবসায়ও সাফল্য দেখাচ্ছে দেশের অন্যতম বড় শিল্প গ্রুপ প্রাণ আরএফএল। আগামী দুই বছরের মধ্যে রপ্তানি ২০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য তাদের চরকা টেক্সটাইলের উৎপাদন লাইনের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে লাইন রয়েছে ১২০টি। লাইন এবং পরিসর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন কার্যক্রম চলবে দুই শিফটে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ উৎপাদন সম্ভব হবে।

গত অর্থবছরে চরকা টেক্সটাইল থেকে রপ্তানি হয়েছে ৯ কোটি ডলারের পোশাক। মাত্র দুই বছরে ২০ কোটি ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা এবং আগামীর অন্যান্য পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী। নরসিংদীর পলাশে ডাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে চরকা টেক্সটাইল কারখানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেন, 'এটা কোনো কঠিন কাজ নয়।'

আহসান খান চৌধুরী জানান, ইউরোপ এবং আমেরিকার বাজারের বিখ্যাত ৩০টি ব্র্যান্ডের পোশাক উৎপাদন করেন তারা। আরও কয়েকটি ব্র্যান্ড তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সাধারণত বড় ব্র্যান্ডের পণ্যের মূল্য বেশি পাওয়া যায়। কাজের অভাব নেই। হবিগঞ্জে নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত কাপড় ব্যবহার করছেন তারা। অন্যান্য প্রায় এক্সেসরিজও নিজস্ব। ব্যবস্থাপনাও একটা বড় বিষয়। উৎপাদনের সব পর্যায়ে উন্নত ব্যবস্থাপনা কাজে লাগিয়ে কীভাবে সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করা যায়, সেই চেষ্টা আছে তাদের।

উচ্চ লক্ষ্য অর্জনে শ্রমিকদের বড় শক্তি মনে করেন আহসান খান চৌধুরী। তিনি বলেন, একজন শ্রমিক সারাজীবন কাজ শেষে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যাবেন- তা হতে পারে না। শ্রমিকদের মধ্যে এ চিন্তা থাকলে কাজের মান ভালো হবে না। এ ছাড়া সরকার মজুরির সর্বনিম্ন হার নির্ধারণ করে দিয়েছে, সর্বোচ্চ হার তো করেনি। ফলে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। শ্রমিকদের পুষ্টিকর খাবার এবং বিশ্রামের কথা বিবেচনা করে কারখানার মধ্যেই ভর্তুকি মূল্যে মাত্র পাঁচ টাকায় দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়। কারখানার অভ্যন্তরেই আবাসান সুবিধা পাচ্ছেন অনেক শ্রমিক। স্কুল, ক্লিনিকসহ আরও অনেক সুবিধা দেওা হচ্ছে। উৎপাদনে সেই ছাপ লক্ষ্য করছেন তারা। চরকা টেক্সটাইলে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ৮০ শতাংশের মতো। বর্তমানে সাত হাজার শ্রমিক কাজ করছে চরকায়। নতুন পরিকল্পনায় আরও সাত হাজার শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

চরকায় বিশেষায়িত পণ্যই বেশি উৎপাদিত হয়। আহসান খান চৌধুরী জানান, চরকার মোট উৎপাদন এবং রপ্তানির ৩৫ শতাংশই লেগিংস আইটেম (মেয়েদের আঁটোসাঁটো পাজামা)। এর জন্য উৎপাদনে বিশেষ দক্ষতা এবং সতর্কতার প্রয়োজন হয়।

বাংলাদেশের পোশাক খাতের বিষয়ে উচ্চ আশা রাখেন আহসান খান চৌধুরী। তিনি বলেন, সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে চীনকে টপকে বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ স্থান নেওয়া কঠিন কাজ হবে না। শুধু পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।

মন্তব্য করুন