তুলার মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। নিয়মিত বিরতিতে দর বাড়ছে। আগামীতে তুলা পাওয়াটাই কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তুলার দর আরও বাড়তে পারে। এসব কারণে দেশে সুতার বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ)। আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দর যতটুকু বাড়ে সুতার দর বাড়ানোর ক্ষেত্রে সেই আনুপাতিক হিসাব যাতে ঠিক থাকে সেজন্য সংশ্নিষ্ট উদ্যোক্তাদের সংগঠনগুলোকে সমঝোতায় পৌঁছার আহ্বান জানিয়েছেন বিসিএ নেতারা। গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান বিসিএ সভাপতি মোহাম্মদ আইউব। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম, বিটিএমএর সহসভাপতি ফজলুল হক, বিটিটিএলএমইএ সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।\হকটন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, কয়েক মাস ধরে তুলার দর অস্বাভাবিক। তুলার দর, প্রাপ্যতা ও সরবরাহ চেইনের পরিস্থিতি নিয়ে বস্ত্র ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের কাছে ব্যাখ্যা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ সংবাদ সম্মেলন। তিনি বলেন, তুলা উৎপাদনকারী দেশগুলোতে এখন ফসল তোলার মৌসুম। অন্যান্য বছর এ সময় দর কম থাকে। অথচ এবার তুলার দর এক দশকের সর্বোচ্চ। দরের গতিপ্রকৃতি বিশ্নেষণে আগামীতে তুলার দর এবং প্রাপ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কবে কীভাবে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে বলা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রকৃত তথ্য বিচেনায় নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে সব পক্ষকে কাজ করতে হবে। বিকল্প হিসেবে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আমদানি বাড়াতে সরকারকে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করারও অনুরোধ জানান তিনি।\হসংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি অভিযোগ করেন, তুলার দর যতটুকু বাড়ছে তার চেয়েও বেশি হারে সুতার দর বাড়িয়েছে বিটিএমএর মিলগুলো। নতুন করে সুতার দর আর না বাড়ানোর সমঝোতা অনেক বস্ত্র কল। এ ব্যাপারে বিটিএমএর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা। তবে কোনো প্রতিকার পাননি। জবাবে বিটিএমএর সহসভাপতি বলেন, কোনো কোনো কারখানা এমন করছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। বিটিএমএ তাদের সতর্ক করেছে। বিজিএমইএর সহসভাপতি বলেন, তুলার দরবৃদ্ধির পূর্বাভাসে পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা সতর্ক হতে পারবেন। ক্রেতাদের সঙ্গে দর আলোচনায় তা কাজে লাগবে। তিনিও তুলা-সুতার দর নিয়ে সমঝোতাভিত্তিক শান্তিপূর্ণ পথেই এগোনোর পরামর্শ দেন। স্থানীয় বাজারে ব্যবহূত সব ধরনের সুতা আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান বিটিটিএলএমইএ সভাপতি। সুতা আমদানিতে ৩৭ শতাংশ শুল্ক্কারোপ রয়েছে। সংকটকালে পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক্ক যেভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে বস্ত্র খাতের সংকটেও এখন সুতা আমদানি শুল্ক্ক প্রত্যাহার করা সময়ের দাবি। তার অভিযোগ, তুলার দর সারাবিশ্বকেই প্রভাবিত করেছে। অথচ পৃথিবীর সব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সুতার দাম বেশি। তার এই বক্তব্যের জবাবে বিটিএমএর অতিরিক্ত পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী মনসুর আহমেদ বলেন, সুতা আমদানি অবাধ করা হলে দেশে পশ্চাৎসংযোগ শিল্প অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে।

মন্তব্য করুন